খোরশেদ আলম, সাভার উপজেলা প্রতিনিধি/
একটি বিশ টাকার স্ট্যাম্পে সুইসাইড নোট লিখে থানায় হাজির হয়েছেন সাভারের আশুলিয়ার এক যুবক। নোটে লেখা আছে আত্মহত্যার জন্য পৃথিবীর কেউ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার মৃত্যুর পর পরিবার যাতে আইনি জটিলতায় না পড়ে সেই কথাও লিখেছেন।
ওই যুবক থানায় জানিয়েছেন, প্রেমিকাকে নিয়ে তার পরিবারের সাথে সম্পর্কের টানাপড়নের কারণেই তিনি এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ায থানার ডিউটি অফিসারের সামনে ওই যুবককে বসে থাকতে দেখা যায়। এসময় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারাও ওই যুবককে বুঝিয়ে নিবৃত করেন।
আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেয়া ওই যুবক আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে ফয়সাল । তিনি ওই এলাকার আব্দুল মান্নান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।
সুইসাইড নোটে ফয়সাল লেখেন, 'আমি মোঃ ফয়সাল হাসান বাংলাদেশের একজন নাগরিক। আমার বয়স ১৮। অতএব আমি প্রাপ্তবয়স্ক। আমি আমার বুঝ বুঝতে শিখেছি।
অতএব, আমি ফয়সাল হাসান সজ্ঞানে চিন্তাভাবনা করিয়া এই মর্মে অঙ্গীকার করিতেছি যে, ভবিষ্যতে আমার যদি কোন প্রকার
ক্ষতি হয় বা আমি মারা যাই এর জন্য এই পৃথিবীর কেউ দায়ী থাকবে না। আমার মৃত্যুর জন্য কেবল আমি নিজেই দায়ী। আমার
কোন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর আইন যাতে আমার পরিবার অন্য কারও উপর কোন প্রকার হয়রানি করতে না পারে।'
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নোমান ছিদ্দিক বলেন, রাতে একটি স্ট্যাম্পে সুইসাইড নোট লিখে ডিউটি
অফিসারের রুমে জমা দিতে এসেছিলেন এক যুবক। পরে বিষয়টি আমার নজরে আসলে তার সাথে কথা বলি। এক পর্যায়ে
বুঝিয়ে তাকে তার বাড়িতে পরিবারের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি ছেলেটির পরিবার অনেক দরিদ্র। তার বাবা
একজন কৃষক। ছেলেটি স্থানী একটি কলেজে পড়াশুনা করে। একটি মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্কও আছে। সম্প্রতি ছেলেটি
ওই মেয়েটিকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু তার পরিবার এখনি সেই বিয়েতে সম্মত ছিলো না। কারণ আরও কিছুটা প্রাপ্ত বয়স্ক হলে
তারপর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবে এমন বিষয় ছেলেটিকে জানায় তার পরিবার। এতেই ক্ষোভে-দুঃখে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত
নেয় ছেলেটি।
তিনি আরও জানান, আমি ছেলেটির বাবা-মা ও আত্মীয়দের সাথে কথা বলেছি। ছেলেটিকেও বুঝিয়ে তার পরিবারের জিম্মায়
বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এঝন সবকিছু স্বাভাবিক আছে।