গোলাম সারোয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২৪ অনুর্ধ্ব-১৭ বালকদের খেলাটি মাঠে গড়ানোর আগেই পন্ড হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টের সকল খেলা স্থগিত করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক (অনূর্ধ্ব-১৭)-এর উদ্বোধন করা হয়।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামল চন্দ্র বসাকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জিয়াউল করিম খান সাজু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীফপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরী তারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাদল সাদির,দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রাসেল মিয়া, চরচারতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো: ফাইজুর রহমান ,সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
জানা যায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে উদ্বোধনী দিনে চরচারতলা ইউনিয়ন বনাম দুর্গাপুর ইউনিয়ন ও আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বনাম শরীফপুর ইউনিয়নের মধ্যে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পর খেলা শুরুর আগেই বয়স যাচাই নিয়ে চরচারতলা ইউনিয়ন ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে দুপক্ষ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পরে। একপর্যায়ে আশুগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো: শফিকুল ইসলাম ও দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: রাসেল মিয়া বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মাঝেই উভয়পক্ষের হাতাহাতি ও চেয়ার ছুড়াছুড়িতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো খেলার মাঠ। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরইমধ্যে চরচারতলা ইউনিয়ন ও শরীফপুর ইউনিয়নের খেলোয়াড়রা খেলার উপযুক্ত পরিবেশ নেই দাবি করে মাঠ ত্যাগ করে। পরে বাধ্য হয়ে টুর্নামেন্টের সকল খেলা স্থগিত ঘোষণা করেন ইউএনও।
এ ব্যাপারে চরচারতলা, আশুগঞ্জ সদর ও শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, খেলার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় আমাদের দল আর টুর্নামেন্টের কোনো খেলায় অংশ নেবে না।
তবে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহীন সিকদার জানান, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।