
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ময়মনসিংহ ব্যুরো: মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪) তারিখে নির্মল পরিবেশ হারাচ্ছে ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক। এমন একটি সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক দেশবাংলা প্রতিদিন, সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিম। তিনি এক মাসের মধ্যে ময়মনসিংহ নগরীর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্কের চিত্র বদলে দিয়েছেন।
এখন আর পার্কে ফুচকা চোটপটি দোকানদারদের দেখা যাচ্ছে না। নেই কোন ঝামেলা যে যেখানে বসতে চায় সে সেখানেই বসতে পারতেছে এ-যেন নতুন এক স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্কে আসা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ জন।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্কে আমরা নজর দারি রাখছি, সপ্তাহে একবার করে ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পার্কে কোন চাঁদা বাজি চলবে না, মাদক, জুয়া অবৈধভাবে দখল করে দোকান চালানো দেওয়া হবে না।
গত ১০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পার্কের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ময়মনসিংহ নগরীর লাখো নাগরিকের বেড়ানোর প্রিয় জায়গা হলো শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক। সেই ভোর থেকে রাত ১০টা অবধি এখানে শত-শত মানুষের আনাগোনা। ছুটির দিন কিংবা কোনো উৎসবের দিনে এখানে ঢল নামে মানুষের। কিন্তু প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে পার্কটি তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে।
হারাচ্ছে প্রকৃতির সুনসান নীরবতা। সম্প্রতি পার্কের স্থানে স্থানে স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানের কারণে পার্কের পরিবেশ আরো নাজুক হয়ে উঠেছে। খাবারের দোকান, খাবারের গন্ধ, বিক্রেতাদের হাঁকডাক মিলে পার্কের সেই পরিবেশই এখন আর নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রতীরে কাচারি ঘাট এলাকায় এই পার্কটি ময়মনসিংহবাসীর বেড়ানোর প্রধান স্থান।
অনেকখানি এলাকাজুড়ে ছোট বড় অসংখ্য গাছ গাছালিতে ভরা শান্ত নিরিবিলি পরিবেশের এই পার্কে ছুটে আসেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জন। শহরের বিপুলসংখ্যক নাগরিক ভোরবেলা এই পার্কে এসেই শরীরচর্চা করেন, হাঁটাহাঁটি করেন। সকাল ১০টার দিকে আসা শুরু হয় অনেক নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীদের। বিকেল ৪টার পর ঢল নামে অভিভাবকসহ ছোট ছোট শিশুদের।
কিন্তু বহু দিন ধরেই এখানে আগতদের চাহিদাকে পুঁজি করে এখানে গড়ে উঠছে ছোট-বড় নানা রকমের দোকান। এসব দোকানে চলে চটপটি, ফুচকা, চা-শিঙাড়াসহ নানা খাদ্যপণ্যের। দোকান তৈরি করা হচ্ছে পার্কের সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে, সার্কিট হাউস মাঠের কোনায়, সড়কের ডানপাশ, বামপাশ ছুঁয়ে। বলা যায়, এসব দোকানের কারণে এখন এই পার্কে আগত লোকজন স্বস্তিতে হাঁটাচলাই করতে পারছেন না। যেখানে-সেখানে দোকানঘর, তাদের সারি সারি চেয়ার, রান্নার গন্ধ আর বিক্রেতাদের হাঁকডাক নিয়ে পার্কের নির্মল পরিবেশ নাজুক হয়ে পড়েছে বর্তমানে।
ময়মনসিংহের স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান,সম্প্রতি পার্কে বিপুলসংখ্যক দোকানপাট গড়ে ওঠার বিষয়টি নিয়ে অনেকে বিরক্ত। কিছু দোকান থাকতে পারে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই পার্কটি খাবারের বাজার।




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন