
কাশেম আহমেদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি: ছাত্র শিক্ষক কৃষক ভাই-ইঁদুর দমনে সহযোগিতা চাই- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাগুরায় জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান-২০২৪ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়।
সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯:৩০ টায় মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ চাঁদের হাটে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান-২০২৪ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.মোঃ ইয়াসিন আলী”র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মোঃ অহিদুল ইসলাম। ইঁদুর নিধন কর্মসূচীর এবারের প্রতিপাদ্য ছিলো ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ভাই-ভাই ইঁদুর দমনে সহযোগিতা চাই। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদেরকে ডিসপ্লে বোর্ডে ইঁদুর সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন কার্যাবলী দেখানো হয়। এ সময় দেখানো হয় যে, বাংলাদেশে মোট ১২ জাতের ইঁদুর আছে। ইঁদুরের বংশ বৃদ্ধির হার খুব বেশি। ইঁদুর বছরে ৬ থেকে ৮ বার বচ্চা দেয়। ১ জোড়া ইঁদুর থেকে বছরে ৩০০০ হাজার ইঁদুর জন্ম হতে পারে। এদের জীবনকাল ২ থেকে ৩ বছর হয়ে থাকে। প্রধান প্রধান ফসলগুলো ইঁদুর যে ভাবে নষ্ট করে তার মধ্যে গমের ক্ষতি করে ৮ থেকে ১২ ভাগ, আমন ধানের ক্ষতি করে ৫ থেকে ৭ ভাগ ও শাক সবজির ক্ষতি করে ৪ থেকে ৫ ভাগ।
এ সময় ইঁদুর দমন অভিযান- ২০২৪ সফলের জন্য কিছু সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ সমূহ হলো- ইঁদুর দমন অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিনত করে আরো বেগবান করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। জনগনের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলা সহ নারীর অংশ গ্রহন বৃদ্ধি করা। শুধু মাস নয় সারা বছর ইঁদুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেয়া। ইঁদুরের বংশ বিস্তার, ক্ষতির প্রভাব ও নিধন কৌশল পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা। স্হানীয় সরকারের সর্ব নিম্নস্তরে যেমন ওয়ার্ড/ ইউনিয়নে ইঁদুর নিধনে বিশেষ কর্মসূচী নেয়া যেতে পারে। প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া কর্তৃক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা। সবশেষে প্রধান অতিথি মোঃ অহিদুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে আমাকে নিচ থেকে ইঁদুর মেরে আসতে বলেছিলো কিন্তু আমি ভাবলাম একটা প্রাণী হত্যা করবো এটা কেমন হয়। এখন অনুষ্ঠানে এসে দেখলাম ইঁদুর একটি খুবই ক্ষতিকর প্রানী তাই তাকে মেরে ফেলা উচিত। আমরা সবাই ইঁদুরের বংশ বিস্তার সম্পর্কে সচেতন হবো এবং ইঁদুর নিধনের মাধ্যমে ফসলকে রক্ষা করবো।
উক্ত অনুষ্ঠানে ৬ বার জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মোঃ আব্দুল হান্নান মোল্লার তার আবিষ্কৃত ইঁদুর নিধানের বিভিন্ন ফাঁদ কীটনাশক ও অন্যান্য জিনিসপত্র প্রদর্শন করেন, মাগুরায় ২০০৫ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এবং ব্যবহারের কলা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। তার চাওয়া তার আবিষ্কৃত এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষকের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক, তবেই তার সার্থকতা, জেলা প্রশাসক ওহিদুল ইসলাম তার এই আবিষ্কারের ভূয়সী প্রশংসা করেন, অবশেষে তাকে তার অবদানের জন্য সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এছাড়াও কৃষি ক্ষেত্রে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় অবস্থান অধিকার করা মোঃ আশরাফুল আলম সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাগুরা, তাকেও সম্মাননা দেয়া হয়।




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন