শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টারঃ
নওগাঁর মাটিতে রসালো ও সুমিষ্ট কমলা চাষে সফল হয়েছেন যুবক শফিকুল ইসলাম ওরফে রানা। তিনি
শখের বশে মাত্র ৭ কাঠা জমিতে রসালো ও মিষ্টি জাতের ৪৫ টি কমলা গাছের চারা রোপন করেন সেই শখের বশে রোপনকৃত গাছ থেকে কমলা বিক্রি করে তার বছরে আয় এখন প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আগামীতে আরো লাভবান হবেন বলেও আশাবাদী শফিকুল ইসলাম ওরফে রানা। তার এই সফলতায় অন্যদের মনেও জাগাছে নতুন আশা ও সপ্ন। উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম ওরফে রানা হলেন, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের ঈশ্বর লক্ষীপুর গ্রামের খয়বর আলীর ছেলে। জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ছোট বেলায় সে রাজধানী ঢাকা শহরে চলে যায়। সেখানে দীর্ঘদিন যাবত পোশাক কারখানায় কাজ করেন। করোনা ভাইরাসের কারনে সারাবিশ্ব যখন স্থবির হয়ে যায় তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও তখন তিনি চলে আসেন নিজ গ্রামে। এরি এক পর্যায়ে তার সে তার স্মাট ফোনে ইউটিউব-এ দেশের মাটিতে কমলা চাষের ভিডিও দেখে কমলা চাষের প্রতি আগ্রহ বা শখ জাগে তার। সেই আগ্রহ বা শখের বশে সে চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতি টি গাছের চারা ৩শ’ টাকা দরে ৪৫ টি কমলা গাছের চারা কিনে এনে বাড়ির পাশের ৭ কাঠা জমিতে রোপণ করেন। সে সময় কমলা গাছের চারা রোপণের ঘটনাটি নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন। তাদের কথায় এক পর্যায়ে তিনি আশাহত হয়ে কমলা বাগানের ভেতর কমলা গাছের ফাঁকে ফাঁকে পেয়ারা গাছ রোপন করেন। পেয়ারা গাছ বেড়ে না ওঠতেই গত বছরের শুরুতে কমলা গাছে ফুল দেখা দেয় ও কমলাও ধরে প্রায় প্রতিটি গাছে। এক পর্যায়ে রসালো ও মিষ্টি কমলা হওয়ায় তিনি আশায় বুক বেঁধে সে সময়-ই কমলা’র বাগানের ভেতর রোপনকৃত পেয়ারার গাছ গুলো কেটে ফেলেন। এরপর এবারে কমলার গাছগুলোতে প্রচুর পরিমান কমলা ধরেছে। এক কথায় তার ছোট বাগানের সব গুলো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা।এবিষয়ে জানতে চাইলে উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম ওরফে রানা প্রতিবেদককে বলেন, আমি ইউটিউব দেখে আগ্রহী হয়ে কমলা গাছের বাগান করি। গাছ লাগানোর দু’ বছর পর থেকে গাছে কমলা ধরতে শুরু করে। প্রতি বছর মার্চ মাসে গাছে ফুল আসে সেই ফুল থেকে ফল (কমলা) পুষ্ট হয় যা নভেম্বর মাসের শেষ থেকে ডিসেম্বর মাসে গাছ থেকে ফল উত্তোলন করা হয়। গত বছর (প্রথম) আমি ২শ’ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি করে আয় করেছিলাম প্রায় ১৪ হাজার টাকা তবে এবার গাছগুলোতে অনেক বেশি কমলা ধরেছে। এ পর্যন্ত এ বাগানে আমার সব মিলে খরচ হয়েছে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা। আমি আশাবাদী এবারে ৫০ হাজার টাকার মত কমলা বিক্রি করতে পারবো।
এব্যাপারে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, কমলা অনেক লাভজনক একটি ফসল। আমাদের বরেন্দ্র অঞ্চলে সকল প্রকার ফসল হয়। কমলা চাষ করে কম খরচে অনেক বেশি টাকা আয় করা যায়। আমরা ঐ কমলা’র বাগান পরিদর্শন করে এসেছি এবং তাকে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন