আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) দিনভর উত্তর গাজা সিটিতে তীব্র বোমাবর্ষণ ও গুলি বর্ষণে অন্তত ৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন ৪৭ জন।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খাদ্য সংকট ও অপুষ্টিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন মারা গেছেন। এদিকে খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী একের পর এক তিনটি বিমান হামলা চালিয়ে একটি বহুতল ভবন ধ্বংস করে দেয়। এতে অন্তত সাতজন নিহত হন। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন, হামলার পরপরই চারদিকে “mayhem and chaos” বা অরাজকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখা যায়। তিনি জানান, অনেক শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। এমনকি এক শিশুর শরীরে অন্য আহতদের দেহাংশ লেগে ছিল।জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলমান অভিযানে ইসরায়েল প্রায় এক মিলিয়ন মানুষকে গাজা সিটি ছাড়তে বাধ্য করছে।এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।তুরস্ক ঘোষণা করেছে, গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে বিভক্ত মত দেখা দিয়েছে।গাজায় যুদ্ধ, ক্ষুধা ও মানবিক বিপর্যয়ের এই ভয়াবহ সমীকরণে সাধারণ মানুষের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায় ঠেকেছে।
সূত্র: আল জাজিরা