মোজাহারুল ইসলাম চপল(প্রসূন কবি)
কবিতা-গবেষণা প্রবন্ধ
একজন গুরুগম্ভীর গবেষক বললেন
মুরগি হচ্ছে বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ প্রাণী,
কেন?
কারণ ডিম দেয়, হাঁটে, ডাক দেয়
আবার নিজেই নিজের বিজ্ঞাপন করে, কক্ কক্ কক্!
সকলেই হাততালি দিলো।
আহা! যুগান্তকারী তত্ত্ব!
তখন আরেকজন প্রাজ্ঞ মুখে বললেন
তাহলে তো মোরগ আরও শ্রেষ্ঠ!
সকালবেলা ঘড়ির কাজ করে
মানুষকে ঘুম ভাঙায়,
বিদ্যুৎ না থাকলেও এর ঘড়ি কখনো নষ্ট হয় না
সবাই হা করে তাকিয়ে রইল!
জ্ঞান সমুদ্র ভেসে যাচ্ছে গেরামে।
ঠিক তখনই এক বোকার হাতে ভাতের হাঁড়ি পড়লো
গরম গরম ভাত ছুঁড়ে দিলো মুরগির দিকে,
মুরগি ভয়ে ছুটে পালালো।
সেই বোকা লোক চিৎকার করে উঠলো
হা হা বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ প্রাণী আমার সামনে হার মানলো!
গেরামের সবাই হাসলো, কেউ খেপলো কেউবা ঈর্ষায় মুখ ঘুরালো।
এমন সময় খবর ছড়ালো--
গেদু মিয়া নাকি গবেষণা করছে
কি নিয়ে জানো?
গরুর লেজ নিয়ে!
কেউ বলে, গরুর লেজই একদিন মানুষের চেয়ে বেশি কাজ দেবে।
কেউ হেসে গড়িয়ে পড়লো
কেউবা কসম খেয়ে বললো--
এই গেরামের ভাগ্য উজ্জ্বল হবেই।
খেলা নিয়েও নতুন গবেষণা শুরু হলো
আগে কাবাডি ছিলো প্রাণ,
তারপর ফুটবল, এরপর ক্রিকেট
এখন নাকি মোবাইল গেমসই আসল খেলা।
কেউ বলে--এই খেলা মানুষকে ধ্বংস করবে
কেউ বলে--না, নতুন সভ্যতার দিগন্ত খুলবে।
এদিকে এক প্রাজ্ঞ দার্শনিক বললেন--
মানুষ আসলে ফেরেশতা না
ফেরেশতা ভুল করে না, মানুষ করে,
আবার কেউ কেউ ভুল করেও গর্ব করে।
শেষে এক গোপন সত্য ফাঁস হলো
ক্ষমতা মানুষকে ভুল করায়
আর দুর্বল মানুষকে ভুলতে শেখায়--
এ কথা জানার জন্য আসলে,
কোনো গবেষণা প্রবন্ধের দরকার নেই
এটাই বাস্তবতা এটাই সত্য।