
শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টারঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এনে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে ফুঁসে ওঠেন ঐ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। এমনকি প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ রেখে প্রধান শিক্ষকের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করার ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার ১১ সেপ্টেম্বর সকাল সারে ১০ টারদিকে বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষক আবদুল ওয়াহেদ আলীর বিরুদ্ধে কোচিং-এর ফি বেশি নেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষক আবদুল ওয়াহেদ আলীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মনসুর আলী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপরও ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বিদ্যালয়ে অবস্থান নেয়। ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে অবশেষে ঐ দিনই বিকেল ৩ টারদিকে প্রধান শিক্ষক পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় বলে প্রাথমিক ভাবে জানাগেছে।প্রধান শিক্ষক আবদুল ওয়াহেদ আলী সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে তার পদত্যাগ পত্রটি হস্তান্তর করেছেন। সে সময় উপস্থিত ছিলেন, মান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম শেখ, মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মনসুর আলী, পরানপুর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান, বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মকলেসুর রহমান মকে, জামায়াতের উপজেলা সহ-সেক্রেটারী সহ-অধ্যাপক ইলিয়াস খান, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাছির উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা। ঘটনার বিষয়ে সংবাদকর্মীরা জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী জানান, প্রধান শিক্ষক সহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। আমি শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পেরেছি প্রধান শিক্ষক সভাপতি বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন, সভাপতি দ্রুতই জরুরী ভিত্তিতে সভা (মিটিং) আহবান করে ঘটনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত দুটি বিষয়ে কোচিং করানো হয়ে থাকে। এ দুটি বিষয়ে কোচিং করানোর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। দুটি বিষয়ে কোচিং করে তাদের কাছ থেকে কেন এতো টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং চলমান পরীক্ষার ফি সহ অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা ফুঁসে ওঠেন এবং তারা চলমান পরীক্ষা না দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চায় এরি এক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে তারা অবস্থান নেয় অবশেষে তারা জানতে পারেন যে প্রধান শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। এবিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক আবদুল ওয়াহেদ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম শেখ ঘটনার সতত্য নিশ্চিত করে বলেন, বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন