
মানুষ খুঁজি ভাই
সৈয়দ সময়
মানুষ খুঁজি ভাই
এই বিস্মৃতির ধূলিঝড়ে,
যেখানে মুখ আছে হাজার,
কিন্তু হৃদয় নেই একটিও পূর্ণ,
যেখানে হাসি বিক্রি হয় মুদ্রায়,
কান্না লুকিয়ে থাকে দেওয়ালের আড়ালে।
আমি খুঁজি সেই মানুষ,
যে হাত বাড়ায় অপরের ক্ষুধার পাত্রে,
যে আলো জ্বালায় দুঃখী কুটিরে
নিজের প্রদীপের তেল বিলিয়ে।
মানুষ খুঁজি ভাই
যে মানুষ হবার সাহস রাখে
অমানবতার সাগরে দাঁড়িয়েও।
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক?
কে বলে তা বহুদূর?
আমি দেখি
স্বর্গ আছে করুণার ভেতর,
নরক আছে নিষ্ঠুরতার ছায়ায়।
মানুষের বুকেই খোদাই করা
চিরন্তন ন্যায় বিচার
বিবেকই সেই শ্রেষ্ঠ আদালত,
যেখানে মিথ্যা হার মানে,
সত্য মাথা তোলে অনন্ত আকাশে।
সবার উপরে মানুষ
তাহার উপরে নাই।
মানুষের চেয়ে বড় পরিচয় নেই,
মানুষের চেয়ে গভীর ধর্ম নেই।
এই সত্যের অগ্নিশিখা
জ্বালিয়ে দিই আমি সময় আর কবিতায়,
যাতে প্রতিটি যুগে, প্রতিটি কণ্ঠে
শোনা যায় একই আর্তি
মানুষ খুঁজি ভাই, মানুষ খুঁজি।
সময়’য়ের কবিতার ছন্দে
মানুষ আর জিন মিলেমিশে উচ্চারণ করে
আমিন, আমিন!
যেন মানবতার গান
গভীর নদীর স্রোতের মতো বহে যায়,
যেন শত শত বছর পরেও
এই ডাক থেকে যায় সমকালীন।
হে মানবতা,
তুমি আমার অনন্ত মহাকাব্য,
তুমি আমার কবিতার ঐশ্বর্য
তুমি পৃথিবীর সর্বোচ্চ মহিমার মুকুট।
অন্তরের বিশ্বাসে সময় মহাকালে লিখে যায়
মানুষ খুঁজি ভাই,
মানুষ খুঁজি…




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন