মনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে আপন ভাইয়ের ঘর ভাংচুর ও বিভিন্ন বনজ-ফলজ গাছ কর্তন করেছে ওমান ফেরত বড় ভাই। উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা উত্তর পাড়ায় সোমবার সরেজমিন গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। প্রতিকার চেয়ে ও দোষীর বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী কাজল বেগম বাদি হয়ে গাছ কর্তনকারী ভাশুর বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে জানা যায়, বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে ওমান ফেরত বেলাল হোসেন ও দুবাই প্রবাসী শাহ আলমের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ইতোপূর্বে দুবাই প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী কাজল বেগমের উপর কয়েক দফা পরিকল্পিত হামলা করে তারই ভাশুর বেলাল হোসেন। এরই মাঝে খোকন মিয়ার কৃষি জমি থেকে তার পুত্র বেলাল হোসেন জোরপূর্বক মাটি বিক্রি করে দেয়। এনিয়ে বাতিসা ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের নিকট খোকন মিয়া অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে রোববার সকালে বেলাল হোসেন তার ছোট ভাই শাহ আলমের মালিকানাধীন বাড়ির জায়গার সকল গাছপালা কর্তন ও বসতঘরের জানালা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে আশ-পাশের বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে সে চলে যায়। এর আগে বেলাল হোসেন তাঁর পিতা বৃদ্ধ খোকন মিয়াকে বেশ কয়েকবার মারধর করে। পিতার সাথে ঝামেলার কারণে ভাইয়ের ঘর ভাংচুর ও গাছপালা কর্তন করার উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছে না কেউ।বেলাল হোসেনের মা আলেয়া বেগম ও প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘শাহ আলম প্রবাসে থাকে। সে কোন কিছুর সাথে জড়িত না থাকলেও অন্যায়ভাবে তাঁর মালিকানাধীন গাছপালা কর্তন ও ঘরের জানালা ভাংচুর করেছে তারই আপন বড় ভাই বেলাল হোসেন। আবার তার স্ত্রী কাজল বেগমকেও কয়েকবার মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেছে অভিযুক্ত বেলাল। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি’।
অভিযোগের বিষয়ে সোমবার বেলাল হোসেনের স্ত্রী আছমা আক্তার বলেন, ‘বেলাল হোসেনের পিতা খোকন মিয়া তার প্রতি অবিচার করেছে। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায় বেলাল হোসেনের নামে জায়গা না কিনে তিনি নিজ নামে কিনেছেন। তাছাড়া বেলাল হোসেনের মাথায় কিছুটা সমস্যা আছে। চিকিৎসা চলছে। তবে, শাহ আলমের গাছপালা কর্তন ও ঘর ভাংচুর করা ঠিক হয়নি বলেও তিনি জানান।’এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’