
রংপুর প্রতিনিধি:
হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দুস্থ উন্নয়ন সংস্থা (ডাস)। গতকাল বিকেল চারটায় গঙ্গাচড়া উপজেলার ডাক্তার পাড়ায় ডাসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মানবিক মিলনমেলায়, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে দুস্থ উন্নয়ন সংস্থার (ডাস) চেয়ারম্যান জনাব মোঃ চান্দ মিয়া এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব মাহমুদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, শীত মৌসুমে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলো যেভাবে এগিয়ে আসছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। দুস্থ উন্নয়ন সংস্থার এই উদ্যোগ মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।তিনি আরও বলেন, সমাজে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতে হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সবসময় এমন কল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রমে পাশে থাকবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডাব রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন রাসেল, সিড-এর নির্বাহী পরিচালক সারথি রাণী সাহা, সমাধান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রহমান, জেএসকেএস-এর নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান, রওনক-এর নির্বাহী পরিচালক ফারহানা বেগম, শ্যাডোর নির্বাহী পরিচালক সরদার জামিল, আহসান হাবীব রবু ও মনজুদার রহমান। বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, শীত শুধু একটি ঋতু নয় এটি দরিদ্র মানুষের জন্য একটি বড় সংকট। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো। তারা বলেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। সভাপতির বক্তব্যে ডাসের চেয়ারম্যান মোঃ চান্দ মিয়া বলেন,ডাস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতে চাই। তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক সমাজ গড়তে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একা সরকারের পক্ষে সব সম্ভব নয় সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সমাজ বদলাতে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রগতি বিয়ামাগারের সমন্বয়কারী সাখাওত হোসেন সোহাগ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন এডাব, রংপুর জেলা শাখা, যারা পুরো আয়োজন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন। কম্বল পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনেকের চোখে-মুখে স্বস্তির ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে সমাজে অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও সহজ হবে এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।






















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন