
গোলাম সারোয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো প্রধানঃ / ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলতি মৌসুমে কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। জেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত কাঁঠাল প্রায় ১২ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৮৫৭ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা তাদের উৎপাদিত কাঁঠাল বিক্রি করা শুরু করেছেন। দামও পাচ্ছেন ভালো।
জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, ছতুরপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়া বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল, কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর, বায়েক, মন্দবাগ, কায়েমপুর এবং আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, আমেদাবাদ, রাজাপুর ও আদমপুর গ্রামের রয়েছে ছোট-বড় কাঁঠাল বাগান। এ ছাড়া এসব এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ৩ থেকে ৪টি করে কাঁঠাল গাছ।
কাঁঠাল চাষিরা জানান, পাহাড়ি টিলা ভূমির কাঁঠাল রসাল মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি। প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা, কুমিল্লা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব, হবিগঞ্জ জেলার শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা বাগান থেকেই কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিজয়নগরের কালাছড়া গ্রামের বাগান মালিক আবুল হাসান বলেন, এ বছর আমাদের এলাকায় কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। প্রতিদিনই ১০০ থেকে ২০০ কাঁঠাল কাটা হয়। প্রতি একশ কাঁঠাল সাইজ অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা বাগানে এনে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কাঁঠালের ফলন ভালো হওয়ায় আমরা লাভবান হবো।
আল-আমিন নামে আরেক বাগান মালিক বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এ বছর কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। সাইজও ভালো হয়েছে। গত ১ মাস থেকে কাঁঠাল বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিক্রি চলবে আগামী ৩ মাস পর্যন্ত। কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাগান মালিক ফারুক বলেন, আমরা আগেই কাঁঠাল বাগান কিনে রেখেছিলাম। প্রতি একশ' কাঁঠাল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে কিনে ছিলাম। এখন কাঁঠাল পরিপক্ক হওয়ায় পাইকাররা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাগানে আসছে। পাইকারদের কাছে প্রতি একশ কাঁঠাল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের আনন্দ বাজারের কাঁঠাল বিক্রেতা আবদুল হাকিম বলেন, বাজারে প্রতিদিন ২৫০/৩০০ কাঁঠাল বিক্রি করি। ক্রেতারা অন্য এলাকার চেয়ে বিজয়নগরের কাঁঠাল বেশি পছন্দ করেন। কাঁঠাল বিক্রি করে আমার ভালো ব্যবসা হচ্ছে।