তালুকদার মোঃ মাস্উদ বরগুনা জেলা প্রতিনিধি /
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বরগুনার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিপেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মঙ্গরবার (৮ আগস্ট) পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টির কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেনা,গবাদিপশু নিয়ে পরছে বিপদে । ফলে দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে।
অন্য দিকে বরগুনার বিষখালী ও পায়রা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বরগুনা পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ড্রেন থেকে জোঁয়ারের পানি উঠে নোংড়া পানিতে প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট। একদিকে বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বরগুনা সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামও প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের মাঝেরচর,নলটোনা ইউনিয়নের গোড়াপদ্মা, কুমির মারা, সোনাতলা, গাজী মাহমুদ এম বালিয়াতলীর ছোনবুনিয়া সহ তালতলী,আমতলী, পাথরঘাটা, বামনা উপজেলার নিম্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। তাদের ফসলি জমি, বসতঘর এবং পুকুর তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ফসল রক্ষা বাধ বেড়িবাঁধের দাবি করলেও কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
জানাযায়,পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া বাজারের নিচু বেড়িবাঁধ উপচে বাজারে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। বরগুনা সদর, বামনা,বেতাগী, আমতলী ও তালতলী উপজেলার নিম্নাঞ্চলের শত শত বসতবাড়ি, ফসলি জমি,মাছের ঘের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে বেড়িবাঁধের বাহিরের পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। এছাড়ও তীররক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে যেতে পারে বলে আতঙ্কে আছেন নদী পার্শ্ববর্তী এলাকার জনসাধারণ ।
এ বিষয় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, খাকদন বিষখালী, বুড়ীশ্বর (পায়রা) এবং বলেশ্বর নদীতে জোঁয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে বৃস্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৩০. ৫ মিলিমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পায়রা সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করছে । উপকূলীয় জেলেদের মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে থাকার জন্য আহবান করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সহযোগিতার কাজে মাঠে অবস্থান করছে।
বিএডিসি (ক্ষুদ্র সেচ) সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মোসাদ্দেক হোসন বলেন আমাদের কোন পটুয়াখালী বরগুনা বাঁধ নির্মান প্রকল্প নেই, কৃষি মন্ত্রনায় যদি প্রকল্প অনুমোদন করেন তাহলে আমরা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মান করতে পারব