প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০২৬, ২:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১০, ২০২৩, ১১:৪১ পি.এম
মীরকাদিম গরু কম খাবারে তুলনামুলক দুধ বেশি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

খোরশেদ আলম, সাভার উপজেলা প্রতিনিধি /
নিজদের সক্ষমতায় প্রথমবারের মত মুন্সীগঞ্জ ক্যাটেল বা মীরকাদিম গরু, দেশী ভেড়া ও হাঁসের পূর্ণাঙ্গ জেনোম সিকোয়েন্স বা জিনের ক্রম বিন্যাস এর রহস্য উস্মোচন করেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)-র গবেষকরা। সফলভাবে এই জাতগুলোর জেনোম বিশ্লেষণও সম্পন্ন করেছেন তারা। এতে করে উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পুষ্টির মান বাড়াতে ও কাজ করতে সুবিধা হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে সাভারের আশুলিয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের এই সফলতার কথা তুলে ধরেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।
প্রতিষ্ঠানের দাবী, জিনের রহস্য উন্মোচন হওয়া ফলে এই পশু-পাখির বংশানু ক্রমের ইতিহাস জানা গেছে। উদাহরন হিসেবে মীরকাদিম গরু কম খাবার খায়। তবে তুলনামুলক দুধ বেশি দেয়। জিনের রহস্য উন্মোচনের ফলে কোন জিনের কারনে দুধ বেশি হয়, সেটা জানা গেছে। যদি আরো দুধ বা মাংস উৎপাদনের কাজ করতে হলে, তখন সেই জিনের এডিটিং বা সম্পাদন করা যাবে সহজে। তবে সেটি বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এটাও পরীক্ষা-নীরিক্ষা বিষয়ও আছে। কারন কতটুকু পযন্ত জিনের এডিটিং সেই পশু-পাখি নিতে পারবে। তার উপর নির্ভর করে। এছাড়া জিনের রহস্য উন্মোচনের ফলে আগেই থেকেই কি ধরনের রোগের সম্ভবনা থাকতে পারে। তা জানা যায়। এতে করে আগাম সর্তকতা মুলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, চেষ্টা করলে বাঙ্গালীর কাছে অসাধ্য কিছুই নয়। আমাদের তরুণ বিজ্ঞানীরাই কাজ করছেন, তাদের মধ্যে কোন দূর্বলতা নেই। সেজন্যেই আমরা তাদের ল্যাব তৈরী করে দিয়েছি। তারা দিনরাত কাজ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ল্যাব দেখে আমরা আমাদের ল্যাব তৈরী করার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য তরূণদের গবেষণায় এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমার দেশের গরু ভেড়া হাঁসের যে আদি রূপ তা আমাদের জানতে হবে। তা জেনেই আমরা গবেষণা করব। আমরা যেন বুক ফুলিয়ে বলতে পারি আমার দেশের হাঁস, আমার দেশের গরু আমার দেশের ভেড়া। ভবিষ্যতে চিকিৎসা সেবা আমার ধারনা জিন থেরাপি নির্ভর হয়ে যাবে। ওষুধ খাওয়ার আর দরকার পরবেনা। যেই জিনে সমস্যা সেই জিন পরিবর্তন বা সংশোধন করলেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
এই জিন গবেষণার দলে ১০ জন সদস্য রয়েছে। এনআইবি গবেষকরা শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশের মীরকাদিম জাতটি ভারতীয় জেবু জাতের গরুর সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
এনআইবির মহাপরিচালক ড. মো. সলিমুল্লাহ বলেন, আমাদের রোগমুক্তি থেকে শুরু করে সবকিছুর পেছনেই জীন আছে। জীন নিয়েই কাজ করছি আমরা। ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি এই সিকোয়েন্সিং এর উদ্বোধন করেছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী। রাতারাতি কিছু দেখাতে আমরা চাইনা। গবেষণা রাতারাতির বিষয় না। আমরা গবেষণা করছি, আমরা শিখছি আমরা আমাদের উদ্ভাবন আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আমরা হয়ত অনেক বড় কিছু উদ্ভাবন করিনি কিন্তু আমাদের নিজস্ব সক্ষমতাই হল বড় কথা। আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি। আমরা যে প্লাটফর্ম তৈরী করেছি এটা শুধু আমাদের জন্য না। এখানে সারাদেশের মানুষকে সেবা দেয়ার সুযোগ আছে।
তিনি আরও বলেন, দেশী জাতের গরু মীরকাদিম থেকে আরও বেশি পরিমাণে মাংস ও দুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরী হবে। দরকারি জিন আমদের গবেষকরা চিহ্নিত করতে পেরেছে।
সেন্টার ফর নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং এন্ড এনালাইটিকস প্রকল্প পরিচালক কেশব চন্দ্র দাস বলেন, জিন রহস্য উন্মোচনের ফলে এখন এসব পশু-পাখি নিয়ে সহজেই কাজ করা যাবে। এতে করে কম খরচে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মলেনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের অন্যন্যি বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ দেশ বাংলা প্রতিদিন