মনোয়ার বাবু,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি /
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার হায়দারনগর গ্রামে দুই পরিবারের বিবাদমান জমির বিরোধের জেরে বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে বন্ধ করা রাস্তা উপজেলা প্রসাশনের সহোযোগীতা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টকারী তোজাম্মেল বাঁশ ও খুঁটি সরিয়ে নিলে সেখানে ভূক্তভোগী প্রায় ৫০টি পরিবারের লোকজন নির্বিঘ্নে আবারও চলাচল করতে শুরু করে।
এদিকে এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রসাশনের নজরে আসলে, রবিবার বিকালে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ ও পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহম্মেদের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ভারপ্রাপ্ত) মাহামুদুল হাসানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ সহ সংশ্লিষ্ট ৩নং সিংড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন।
এসময় ভূক্তভোগী পরিবারসহ বিবাদমান দুই পরিবারকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যম সমস্যার নিরসন করা হয়। তাৎক্ষনিক রাস্তার মাঝে থেকে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী খুঁটি ও বাঁশ সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে করে রাস্তাটি দিয়ে তিন চাকার যানবাহন চলাচল শুরু করে। তবে ভূক্তভোগী পরিবার এবং রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের মাঝে নিজের জমির মাপযোগ নিয়ে জটিলতা থাকার কথা তারা উপস্থিত কর্মকর্তাদেরকে জানায়। এনিয়ে আগামী বুধবার (১৬ আগষ্ট) সরকারী সার্ভেয়ারের মাধ্যমে তাদের জায়গা মাপযোগের মাধ্যমে নিজেদের মাঝে চলা বিরাজমান সমস্যা স্থায়ী ভাবে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী তোজাম্মেল বলেন, পাশ্ববর্তী আত্মীয়ের সাথে আমার জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। তার জায়গার উপর থাকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে বাঁধা প্রদান করায় আমার জায়গার উপর থাকা রাস্তায় আমি খুঁটি পুতেছিলাম। প্রসাশনের লোকজন আমাদের উভয়ের সমস্যা নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই তাৎক্ষণিক আমি নিজেই রাস্তার উপর থেকে খুঁটি ও বাঁশ সরিয়ে নিয়েছি।
এদিকে রাস্তা থেকে ব্যারিকেড তুলে নেওয়ায় ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ভাংগাড়ী ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। রাস্তা দিয়ে তিন চাকার বাহন নিয়ে আবার তাদের চলাচল করতে দেখা গেছে।
ভূক্তভোগী এক নারী মরজিনা বেগম ও ভাংগাড়ী ব্যবসায়ী সিরাজুল বলেন, আমাদের চলাচলের জন্য এটিই এক মাত্র রাস্তা আর এই রাস্তা দিয়ে গত দুই সপ্তাহ যাবত আমরা চলাচল করতে পারিনি। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। আমরা অনেকের কাছে গিয়েছি। সর্বশেষ প্রশাসনের লোকজন এবং আমাদের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রাস্তা খুঁটি সরিয়ে দিয়ে গিয়েছে। এতে আমরা অনেক খুশি।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে ইউএনও স্যারের প্রত্যক্ষ সহোযোগীতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়কে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে আগামীতে তারা আর এ ধরণের ঘটনা ঘটাবে না।
এদিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি জানার পরেই সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে আমি নির্দেশনা দিয়েছিলাম। আমাদের জেলা প্রশাসক স্যারও সমস্যা সমাধানে আমাকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা রাস্তাটি আবারো আগের মত চলাচল উপযোগী করেছি। তাদের মাঝে আরো কিছু ছোটখাটো ঝামেলা আছে নিজেদের জায়গা জমি নিয়ে। তা আগামী বুধবার সরকারী সার্ভেয়ারের দ্বারা মাপযোগের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করে দেয়া হবে