• About us
  • Privacy Policy
  • Contact
  • Team
Sunday, 19 April, 2026
  • Login
  • Register
দেশবাংলা প্রতিদিন
Advertisement
  • Home
    • Home – Layout 1
    • Home – Layout 2
    • Home – Layout 3
    • Home – Layout 4
    • Home – Layout 5
    • Home – Layout 6
  • News
  • Tech
  • Entertainment
  • Lifestyle
  • Review
কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি
সকল ফলাফল দেখুন
দেশবাংলা প্রতিদিন
  • Home
    • Home – Layout 1
    • Home – Layout 2
    • Home – Layout 3
    • Home – Layout 4
    • Home – Layout 5
    • Home – Layout 6
  • News
  • Tech
  • Entertainment
  • Lifestyle
  • Review
Sunday, 19 April, 2026
কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি
সকল ফলাফল দেখুন
দেশবাংলা প্রতিদিন
কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি
সকল ফলাফল দেখুন
  • হোম
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • বিনোদন
  • ধর্ম
  • অন্যান্য
  • আমাদের পরিবার
প্রথম পাতা Uncategorized

সম্রাটের জামিনে আমরা এত ক্ষুব্ধ কেন?

Deshbangla Pratidin প্রকাশক Deshbangla Pratidin
4 years আগে প্রকাশিত |
ক্যাটাগরি Uncategorized
পড়তে সময় লাগবে: 1 মিনিট
A A
0
‘শনিবার বিকেল’ কিংবা গল্প বলা মুক্ত হোক
0
শেয়ার হয়েছে
0
দেখেছেন
Share on FacebookShare on Twitter

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট জামিন পেয়ে কারামুক্ত (পড়ুন হাসপাতাল) হয়েছেন। যে মানুষটিকে কারারুদ্ধ অবস্থায় ‘ভীষণ অসুস্থ হয়ে’ হাসপাতালে থাকতে হচ্ছিল, তিনি মুক্ত হয়ে রীতিমতো ঢাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারামুক্ত হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার সময় অনেক মোটরসাইকেলসহ তাঁর বিরাট ‘শোভাযাত্রা’-এর ফলে ছুটির দিনেও ঢাকার বড় একটি এলাকায় বেশ যানজট লেগে যায়।

এই দফা জামিনের আগেও একবার জামিন পেয়েছিলেন সম্রাট। ১১ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তিন শর্তে জামিন পান তিনি। কিন্তু দুদক হাইকোর্টে গেলে হাইকোর্ট সম্রাটের জামিন বাতিল করে দেন। এতে সম্রাট আর বেরোতে পারেননি।

এ দফা জামিনের পর সম্রাট বেরিয়েছেন, তবে এবারও দুদক উচ্চ আদালতে গেছে জামিন বাতিল করার জন্য। এর ফল কী হবে জানি না, কিন্তু সম্রাটের এখন জামিনে বেরিয়ে আসা, এমনকি আগেরবার জামিন মঞ্জুরের খবরে অনেকের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছিলাম। ফেসবুকে নানা রকম সিরিয়াস মন্তব্যে এবং ট্রলের মাধ্যমে বিষয়টির প্রতিবাদ করছেন অনেকেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, সম্রাট তো তাঁর সব মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে যাননি, জামিন পেয়েছেন মাত্র, তবুও মানুষ এত ক্ষুব্ধ কেন?

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দর্শনে বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজ্ঞ উইলিয়াম ব্ল্যাকস্টোন নির্দেশিত ব্ল্যাকস্টোনস ফরমুলেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এতে বলা হয় একজন নিরপরাধ মানুষের শাস্তি পাওয়ার চেয়ে দশজন অপরাধী মুক্ত হয়ে যাওয়া ভালো। আমরা নিশ্চয়ই বুঝি এই বক্তব্যের গুরুত্ব।

একজন মানুষকে আইনের দৃষ্টিতে তখনই চূড়ান্তভাবে অপরাধী বলা হয়, যখন তিনি নিম্ন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর যদি উচ্চ আদালতে যান এবং সেখানেও তাঁর সাজা বহাল থাকে। বহু ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের সমাজের ভয়ংকর অপরাধীদের চিনি, তাদের অপরাধ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানি। আমরা নিজেরাই অনেকে সেসব অপরাধের সাক্ষীও। তাই বিচারপ্রক্রিয়ার এতগুলো ধাপ আমাদের অনেককে হয়তো ক্ষুব্ধ করে। আমরা অনেকেই ভাবি এত নিশ্চিতভাবে জানা একটি বিষয়ও কেন এত দীর্ঘ আইনিপ্রক্রিয়া লাগবে।

তেমনি চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করা ও মাস্তান-সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ যে সম্রাটের বিরুদ্ধে তিনি আসলে মূল লোক বা ‘মালিক’ নন। এর ওপরে আছেন আরও অনেকে। সম্রাটকে আমরা আরও অনেক কাল জেলে দেখতে চেয়েছিলাম, কারণ আমরা জানি, শুধু সম্রাট নন, তাঁর মতো আরও অনেককে যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা নেই আমাদের। তাঁরা থেকে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই সম্রাটকে ভুগতে দেখে আমাদের সেই আসল ক্ষোভ প্রশমিত হয় কিছুটা হলেও।

আমাদের এই মানসিকতার প্রভাব আমরা দেখি যখন আমরা হাতেনাতে কোনো চোর, ডাকাত কিংবা ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলতে পারি। ভয়ংকরভাবে পিটিয়ে জখম তো করিই আমরা, অনেক সময় মেরেও ফেলি। ঠিক তেমনি কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ কিংবা এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা করে ফেলে, তাহলে আমরা অনেকেই সেটাকেও সমর্থন করি।

কিন্তু একটা আধুনিক রাষ্ট্র বলতে আমরা বুঝি সেটা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে যা ভয়ংকরতম অপরাধে অভিযুক্ত মানুষকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেবে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে আমাদের হাতে থাকা প্রমাণ, এমনকি সমাজে প্রচলিত ধারণা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে নিশ্চয়ই, কিন্তু সেটা কোনোভাবেই কাউকে অপরাধী হিসাবে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে না। এই বিচারিক পদ্ধতিকে যদি আমরা মেনে নিই, তাহলে সব ধাপ পেরিয়ে যেকোনো মানুষ অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে অপরাধী হিসাবে নিশ্চিত হওয়ার আগে জেলে থাকা তার ওপর আপাতদৃষ্টিতে অন্যায় বলেই মনে হওয়ার কথা।

ফৌজদারি মামলাগুলোকে আবার জামিনযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। খুব জরুরি কোনো বিষয় না থাকলে জামিনযোগ্য মামলাগুলোতে জামিন দেওয়াই রীতি। এমনকি জামিন অযোগ্য যেসব মামলা, সেসব মামলার ক্ষেত্রেও বিচারক চাইলে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। ফৌজদারি মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারক এটা বিবেচনায় নেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মুক্ত থাকলে মামলার বাদীর প্রতি কোন হুমকি তৈরি করবেন কি না, তিনি পালিয়ে যাবেন কি না কিংবা মামলার তদন্ত প্রভাবিত করবেন কি না ইত্যাদি। এমন সম্ভাবনা না থাকলে সাধারণত জামিন দিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যক্তির লিঙ্গ, বয়স, সামাজিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এসব বিষয়ও জামিনের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে।

সাধারণভাবে আমাদের চাওয়া উচিত কোনো মানুষ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত যেন জেলে না থাকেন। একটি অবস্থা কল্পনা করা যাক। কোনো একটি ফৌজদারি মামলায় একজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন এবং জামিন পাননি বা বেশ পরে পেয়েছেন। এই মামলায় তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাঁকে দেওয়া কারাদণ্ড তাঁর মামলা চলাকালে কারাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। কিন্তু কেউ যদি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে সেই মানুষটি যত দিন জেলে ছিলেন, সে সময়ের ক্ষতি তাঁর জীবনে কি কোনোভাবে পূরণ হয়? আমরা এমন একটি দেশে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যেখানে ব্যক্তি পর্যায়ে এবং সরকারের দিক থেকে বিরোধীদের ওপর নানা নিপীড়নমূলক ভুয়া মামলার ভীষণ ছড়াছড়ি।

আমরা যদি একটি আধুনিক, উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা ভাবি, তাহলে আমাদের সবার উচিত হবে সমাজের সবচেয়ে নিন্দিত ভয়ংকর মানুষটাও যেন ন্যায়বিচার পান। তিনিও যেন রাষ্ট্রের অবিচারের শিকার না হন। আমাদের চাওয়ার কথা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার আগে কেউ যেন কারাভোগ না করেন।

এই শহরে চোখ-কান খোলা রাখা মানুষমাত্রই সম্রাট সম্পর্কে জানেন দীর্ঘদিন থেকেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটির চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির মূল নেতৃত্ব দিতেন সম্রাট, এটা একরকম জানাই ছিল। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস আগে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা চেয়ে পত্রিকায় খবরও হয়েছিলেন তিনি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি নিয়ে আপাতদৃষ্টিতে সম্রাটের কোনো সমস্যা না হলেও আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা চাওয়ার কারণে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিরাগভাজন হন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সম্রাট বিদেশে চলে যান। সেখান থেকে সরকারের ‘উঁচু মহল’ ম্যানেজ করে দেশে ফিরে এসে আবার তাঁর কাজ করে যেতে থাকেন।

সম্রাট কী করছেন, সেটা সরকারের উচ্চ পর্যায়েও জানা ছিল। সেটার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই। তখন সম্রাটকে নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি রিপোর্টে কৃষিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘এক বছর আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সম্রাটের ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুদিন যাবৎই এটি ওয়াচ করছিলেন। আমাদের বৈঠকে উনি সুপরিকল্পিতভাবে বিষয়টি নেতাদের জানাতে চেয়েছিলেন বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। সেই বৈঠকে তিনি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।’ (বিবিসি বাংলা, ৬ অক্টোবর, ২০১৯)

সম্রাট যে দল করেন, সেই দলের পক্ষ থেকে এই মনোভাব জানার পরও তো আমাদের সম্রাটের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা না করে সম্রাটের জামিন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা আমাদের দেশের ক্ষমতা এবং বিচারব্যবস্থার এক ভয়ংকর ক্ষতকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। জনগণের মনে এই ধারণা প্রবল এবং এর বাস্তবতাও রয়েছে যে, কেউ যদি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হন, তাঁর পক্ষে এই বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া খুব সম্ভব।

সম্রাটের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সেটা। তথাকথিত শুদ্ধি অভিযানের সময় গ্রেপ্তার আরেক আলোচিত ব্যক্তি জি কে শামীম আর সম্রাট কোনো রকম অসুস্থতা ছাড়াই মাসের পর মাস হাসপাতালে আয়েশি জীবন যাপন করতে পেরেছেন। এমনকি মানুষ দেখল ‘ভীষণ অসুস্থ’ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি একজন মানুষ জামিনে মুক্তি পেয়েই ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

শুধু সেটাই নয়, প্রথম আলোর রিপোর্ট থেকেই জানা যায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে সে সময়ে যে চারটি মামলা হয়েছিল, তার একটির (মানি লন্ডারিং) তদন্তই শেষ হয়নি এখনো। তিনটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু চার্জ গঠন হয়নি। বিচারকার্য শুরু হওয়া এখনো অনেক দূরের কথা। এ দেশে বসবাস করে আমাদের মনে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে সম্রাটদের মতো লোকজনকে শেষ পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই যে কদিন তিনি জেলে আছেন, সেটাকে একধরনের শাস্তি হিসাবে দেখে আমরা পরিতৃপ্তি লাভ করতে চেয়েছি। জামিন পেয়ে সম্রাটের বেরিয়ে আসা এ জন্যই ক্ষুব্ধ করেছে আমাদের।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট জামিন পেয়ে কারামুক্ত (পড়ুন হাসপাতাল) হয়েছেন। যে মানুষটিকে কারারুদ্ধ অবস্থায় ‘ভীষণ অসুস্থ হয়ে’ হাসপাতালে থাকতে হচ্ছিল, তিনি মুক্ত হয়ে রীতিমতো ঢাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারামুক্ত হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার সময় অনেক মোটরসাইকেলসহ তাঁর বিরাট ‘শোভাযাত্রা’-এর ফলে ছুটির দিনেও ঢাকার বড় একটি এলাকায় বেশ যানজট লেগে যায়।

এই দফা জামিনের আগেও একবার জামিন পেয়েছিলেন সম্রাট। ১১ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তিন শর্তে জামিন পান তিনি। কিন্তু দুদক হাইকোর্টে গেলে হাইকোর্ট সম্রাটের জামিন বাতিল করে দেন। এতে সম্রাট আর বেরোতে পারেননি।

এ দফা জামিনের পর সম্রাট বেরিয়েছেন, তবে এবারও দুদক উচ্চ আদালতে গেছে জামিন বাতিল করার জন্য। এর ফল কী হবে জানি না, কিন্তু সম্রাটের এখন জামিনে বেরিয়ে আসা, এমনকি আগেরবার জামিন মঞ্জুরের খবরে অনেকের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছিলাম। ফেসবুকে নানা রকম সিরিয়াস মন্তব্যে এবং ট্রলের মাধ্যমে বিষয়টির প্রতিবাদ করছেন অনেকেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, সম্রাট তো তাঁর সব মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে যাননি, জামিন পেয়েছেন মাত্র, তবুও মানুষ এত ক্ষুব্ধ কেন?

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দর্শনে বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজ্ঞ উইলিয়াম ব্ল্যাকস্টোন নির্দেশিত ব্ল্যাকস্টোনস ফরমুলেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এতে বলা হয় একজন নিরপরাধ মানুষের শাস্তি পাওয়ার চেয়ে দশজন অপরাধী মুক্ত হয়ে যাওয়া ভালো। আমরা নিশ্চয়ই বুঝি এই বক্তব্যের গুরুত্ব।

একজন মানুষকে আইনের দৃষ্টিতে তখনই চূড়ান্তভাবে অপরাধী বলা হয়, যখন তিনি নিম্ন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর যদি উচ্চ আদালতে যান এবং সেখানেও তাঁর সাজা বহাল থাকে। বহু ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের সমাজের ভয়ংকর অপরাধীদের চিনি, তাদের অপরাধ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানি। আমরা নিজেরাই অনেকে সেসব অপরাধের সাক্ষীও। তাই বিচারপ্রক্রিয়ার এতগুলো ধাপ আমাদের অনেককে হয়তো ক্ষুব্ধ করে। আমরা অনেকেই ভাবি এত নিশ্চিতভাবে জানা একটি বিষয়ও কেন এত দীর্ঘ আইনিপ্রক্রিয়া লাগবে।

তেমনি চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করা ও মাস্তান-সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ যে সম্রাটের বিরুদ্ধে তিনি আসলে মূল লোক বা ‘মালিক’ নন। এর ওপরে আছেন আরও অনেকে। সম্রাটকে আমরা আরও অনেক কাল জেলে দেখতে চেয়েছিলাম, কারণ আমরা জানি, শুধু সম্রাট নন, তাঁর মতো আরও অনেককে যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা নেই আমাদের। তাঁরা থেকে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই সম্রাটকে ভুগতে দেখে আমাদের সেই আসল ক্ষোভ প্রশমিত হয় কিছুটা হলেও।

আমাদের এই মানসিকতার প্রভাব আমরা দেখি যখন আমরা হাতেনাতে কোনো চোর, ডাকাত কিংবা ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলতে পারি। ভয়ংকরভাবে পিটিয়ে জখম তো করিই আমরা, অনেক সময় মেরেও ফেলি। ঠিক তেমনি কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ কিংবা এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা করে ফেলে, তাহলে আমরা অনেকেই সেটাকেও সমর্থন করি।

কিন্তু একটা আধুনিক রাষ্ট্র বলতে আমরা বুঝি সেটা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে যা ভয়ংকরতম অপরাধে অভিযুক্ত মানুষকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেবে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে আমাদের হাতে থাকা প্রমাণ, এমনকি সমাজে প্রচলিত ধারণা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে নিশ্চয়ই, কিন্তু সেটা কোনোভাবেই কাউকে অপরাধী হিসাবে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে না। এই বিচারিক পদ্ধতিকে যদি আমরা মেনে নিই, তাহলে সব ধাপ পেরিয়ে যেকোনো মানুষ অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে অপরাধী হিসাবে নিশ্চিত হওয়ার আগে জেলে থাকা তার ওপর আপাতদৃষ্টিতে অন্যায় বলেই মনে হওয়ার কথা।

ফৌজদারি মামলাগুলোকে আবার জামিনযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। খুব জরুরি কোনো বিষয় না থাকলে জামিনযোগ্য মামলাগুলোতে জামিন দেওয়াই রীতি। এমনকি জামিন অযোগ্য যেসব মামলা, সেসব মামলার ক্ষেত্রেও বিচারক চাইলে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। ফৌজদারি মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারক এটা বিবেচনায় নেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মুক্ত থাকলে মামলার বাদীর প্রতি কোন হুমকি তৈরি করবেন কি না, তিনি পালিয়ে যাবেন কি না কিংবা মামলার তদন্ত প্রভাবিত করবেন কি না ইত্যাদি। এমন সম্ভাবনা না থাকলে সাধারণত জামিন দিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যক্তির লিঙ্গ, বয়স, সামাজিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এসব বিষয়ও জামিনের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে।

সাধারণভাবে আমাদের চাওয়া উচিত কোনো মানুষ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত যেন জেলে না থাকেন। একটি অবস্থা কল্পনা করা যাক। কোনো একটি ফৌজদারি মামলায় একজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন এবং জামিন পাননি বা বেশ পরে পেয়েছেন। এই মামলায় তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাঁকে দেওয়া কারাদণ্ড তাঁর মামলা চলাকালে কারাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। কিন্তু কেউ যদি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে সেই মানুষটি যত দিন জেলে ছিলেন, সে সময়ের ক্ষতি তাঁর জীবনে কি কোনোভাবে পূরণ হয়? আমরা এমন একটি দেশে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যেখানে ব্যক্তি পর্যায়ে এবং সরকারের দিক থেকে বিরোধীদের ওপর নানা নিপীড়নমূলক ভুয়া মামলার ভীষণ ছড়াছড়ি।

আমরা যদি একটি আধুনিক, উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা ভাবি, তাহলে আমাদের সবার উচিত হবে সমাজের সবচেয়ে নিন্দিত ভয়ংকর মানুষটাও যেন ন্যায়বিচার পান। তিনিও যেন রাষ্ট্রের অবিচারের শিকার না হন। আমাদের চাওয়ার কথা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার আগে কেউ যেন কারাভোগ না করেন।

এই শহরে চোখ-কান খোলা রাখা মানুষমাত্রই সম্রাট সম্পর্কে জানেন দীর্ঘদিন থেকেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটির চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির মূল নেতৃত্ব দিতেন সম্রাট, এটা একরকম জানাই ছিল। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস আগে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা চেয়ে পত্রিকায় খবরও হয়েছিলেন তিনি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি নিয়ে আপাতদৃষ্টিতে সম্রাটের কোনো সমস্যা না হলেও আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা চাওয়ার কারণে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিরাগভাজন হন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সম্রাট বিদেশে চলে যান। সেখান থেকে সরকারের ‘উঁচু মহল’ ম্যানেজ করে দেশে ফিরে এসে আবার তাঁর কাজ করে যেতে থাকেন।

সম্রাট কী করছেন, সেটা সরকারের উচ্চ পর্যায়েও জানা ছিল। সেটার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই। তখন সম্রাটকে নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি রিপোর্টে কৃষিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘এক বছর আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সম্রাটের ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুদিন যাবৎই এটি ওয়াচ করছিলেন। আমাদের বৈঠকে উনি সুপরিকল্পিতভাবে বিষয়টি নেতাদের জানাতে চেয়েছিলেন বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। সেই বৈঠকে তিনি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।’ (বিবিসি বাংলা, ৬ অক্টোবর, ২০১৯)

সম্রাট যে দল করেন, সেই দলের পক্ষ থেকে এই মনোভাব জানার পরও তো আমাদের সম্রাটের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা না করে সম্রাটের জামিন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা আমাদের দেশের ক্ষমতা এবং বিচারব্যবস্থার এক ভয়ংকর ক্ষতকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। জনগণের মনে এই ধারণা প্রবল এবং এর বাস্তবতাও রয়েছে যে, কেউ যদি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হন, তাঁর পক্ষে এই বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া খুব সম্ভব।

সম্রাটের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সেটা। তথাকথিত শুদ্ধি অভিযানের সময় গ্রেপ্তার আরেক আলোচিত ব্যক্তি জি কে শামীম আর সম্রাট কোনো রকম অসুস্থতা ছাড়াই মাসের পর মাস হাসপাতালে আয়েশি জীবন যাপন করতে পেরেছেন। এমনকি মানুষ দেখল ‘ভীষণ অসুস্থ’ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি একজন মানুষ জামিনে মুক্তি পেয়েই ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

শুধু সেটাই নয়, প্রথম আলোর রিপোর্ট থেকেই জানা যায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে সে সময়ে যে চারটি মামলা হয়েছিল, তার একটির (মানি লন্ডারিং) তদন্তই শেষ হয়নি এখনো। তিনটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু চার্জ গঠন হয়নি। বিচারকার্য শুরু হওয়া এখনো অনেক দূরের কথা। এ দেশে বসবাস করে আমাদের মনে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে সম্রাটদের মতো লোকজনকে শেষ পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই যে কদিন তিনি জেলে আছেন, সেটাকে একধরনের শাস্তি হিসাবে দেখে আমরা পরিতৃপ্তি লাভ করতে চেয়েছি। জামিন পেয়ে সম্রাটের বেরিয়ে আসা এ জন্যই ক্ষুব্ধ করেছে আমাদের।

বিশেষখবর

মেহেরপুরে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১

উত্তরায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যু চৌদ্দগ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে ৩ জনকে,

জামায়াতে আমীর নির্বাচন,মদনসহ ৫ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট জামিন পেয়ে কারামুক্ত (পড়ুন হাসপাতাল) হয়েছেন। যে মানুষটিকে কারারুদ্ধ অবস্থায় ‘ভীষণ অসুস্থ হয়ে’ হাসপাতালে থাকতে হচ্ছিল, তিনি মুক্ত হয়ে রীতিমতো ঢাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারামুক্ত হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার সময় অনেক মোটরসাইকেলসহ তাঁর বিরাট ‘শোভাযাত্রা’-এর ফলে ছুটির দিনেও ঢাকার বড় একটি এলাকায় বেশ যানজট লেগে যায়।

এই দফা জামিনের আগেও একবার জামিন পেয়েছিলেন সম্রাট। ১১ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তিন শর্তে জামিন পান তিনি। কিন্তু দুদক হাইকোর্টে গেলে হাইকোর্ট সম্রাটের জামিন বাতিল করে দেন। এতে সম্রাট আর বেরোতে পারেননি।

এ দফা জামিনের পর সম্রাট বেরিয়েছেন, তবে এবারও দুদক উচ্চ আদালতে গেছে জামিন বাতিল করার জন্য। এর ফল কী হবে জানি না, কিন্তু সম্রাটের এখন জামিনে বেরিয়ে আসা, এমনকি আগেরবার জামিন মঞ্জুরের খবরে অনেকের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছিলাম। ফেসবুকে নানা রকম সিরিয়াস মন্তব্যে এবং ট্রলের মাধ্যমে বিষয়টির প্রতিবাদ করছেন অনেকেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, সম্রাট তো তাঁর সব মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে যাননি, জামিন পেয়েছেন মাত্র, তবুও মানুষ এত ক্ষুব্ধ কেন?

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দর্শনে বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজ্ঞ উইলিয়াম ব্ল্যাকস্টোন নির্দেশিত ব্ল্যাকস্টোনস ফরমুলেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এতে বলা হয় একজন নিরপরাধ মানুষের শাস্তি পাওয়ার চেয়ে দশজন অপরাধী মুক্ত হয়ে যাওয়া ভালো। আমরা নিশ্চয়ই বুঝি এই বক্তব্যের গুরুত্ব।

একজন মানুষকে আইনের দৃষ্টিতে তখনই চূড়ান্তভাবে অপরাধী বলা হয়, যখন তিনি নিম্ন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর যদি উচ্চ আদালতে যান এবং সেখানেও তাঁর সাজা বহাল থাকে। বহু ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের সমাজের ভয়ংকর অপরাধীদের চিনি, তাদের অপরাধ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানি। আমরা নিজেরাই অনেকে সেসব অপরাধের সাক্ষীও। তাই বিচারপ্রক্রিয়ার এতগুলো ধাপ আমাদের অনেককে হয়তো ক্ষুব্ধ করে। আমরা অনেকেই ভাবি এত নিশ্চিতভাবে জানা একটি বিষয়ও কেন এত দীর্ঘ আইনিপ্রক্রিয়া লাগবে।

তেমনি চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করা ও মাস্তান-সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ যে সম্রাটের বিরুদ্ধে তিনি আসলে মূল লোক বা ‘মালিক’ নন। এর ওপরে আছেন আরও অনেকে। সম্রাটকে আমরা আরও অনেক কাল জেলে দেখতে চেয়েছিলাম, কারণ আমরা জানি, শুধু সম্রাট নন, তাঁর মতো আরও অনেককে যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা নেই আমাদের। তাঁরা থেকে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই সম্রাটকে ভুগতে দেখে আমাদের সেই আসল ক্ষোভ প্রশমিত হয় কিছুটা হলেও।

আমাদের এই মানসিকতার প্রভাব আমরা দেখি যখন আমরা হাতেনাতে কোনো চোর, ডাকাত কিংবা ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলতে পারি। ভয়ংকরভাবে পিটিয়ে জখম তো করিই আমরা, অনেক সময় মেরেও ফেলি। ঠিক তেমনি কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ কিংবা এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা করে ফেলে, তাহলে আমরা অনেকেই সেটাকেও সমর্থন করি।

কিন্তু একটা আধুনিক রাষ্ট্র বলতে আমরা বুঝি সেটা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে যা ভয়ংকরতম অপরাধে অভিযুক্ত মানুষকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেবে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে আমাদের হাতে থাকা প্রমাণ, এমনকি সমাজে প্রচলিত ধারণা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে নিশ্চয়ই, কিন্তু সেটা কোনোভাবেই কাউকে অপরাধী হিসাবে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে না। এই বিচারিক পদ্ধতিকে যদি আমরা মেনে নিই, তাহলে সব ধাপ পেরিয়ে যেকোনো মানুষ অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে অপরাধী হিসাবে নিশ্চিত হওয়ার আগে জেলে থাকা তার ওপর আপাতদৃষ্টিতে অন্যায় বলেই মনে হওয়ার কথা।

ফৌজদারি মামলাগুলোকে আবার জামিনযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। খুব জরুরি কোনো বিষয় না থাকলে জামিনযোগ্য মামলাগুলোতে জামিন দেওয়াই রীতি। এমনকি জামিন অযোগ্য যেসব মামলা, সেসব মামলার ক্ষেত্রেও বিচারক চাইলে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। ফৌজদারি মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারক এটা বিবেচনায় নেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মুক্ত থাকলে মামলার বাদীর প্রতি কোন হুমকি তৈরি করবেন কি না, তিনি পালিয়ে যাবেন কি না কিংবা মামলার তদন্ত প্রভাবিত করবেন কি না ইত্যাদি। এমন সম্ভাবনা না থাকলে সাধারণত জামিন দিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যক্তির লিঙ্গ, বয়স, সামাজিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এসব বিষয়ও জামিনের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে।

সাধারণভাবে আমাদের চাওয়া উচিত কোনো মানুষ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত যেন জেলে না থাকেন। একটি অবস্থা কল্পনা করা যাক। কোনো একটি ফৌজদারি মামলায় একজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন এবং জামিন পাননি বা বেশ পরে পেয়েছেন। এই মামলায় তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাঁকে দেওয়া কারাদণ্ড তাঁর মামলা চলাকালে কারাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। কিন্তু কেউ যদি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে সেই মানুষটি যত দিন জেলে ছিলেন, সে সময়ের ক্ষতি তাঁর জীবনে কি কোনোভাবে পূরণ হয়? আমরা এমন একটি দেশে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যেখানে ব্যক্তি পর্যায়ে এবং সরকারের দিক থেকে বিরোধীদের ওপর নানা নিপীড়নমূলক ভুয়া মামলার ভীষণ ছড়াছড়ি।

আমরা যদি একটি আধুনিক, উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা ভাবি, তাহলে আমাদের সবার উচিত হবে সমাজের সবচেয়ে নিন্দিত ভয়ংকর মানুষটাও যেন ন্যায়বিচার পান। তিনিও যেন রাষ্ট্রের অবিচারের শিকার না হন। আমাদের চাওয়ার কথা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার আগে কেউ যেন কারাভোগ না করেন।

এই শহরে চোখ-কান খোলা রাখা মানুষমাত্রই সম্রাট সম্পর্কে জানেন দীর্ঘদিন থেকেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটির চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির মূল নেতৃত্ব দিতেন সম্রাট, এটা একরকম জানাই ছিল। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস আগে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা চেয়ে পত্রিকায় খবরও হয়েছিলেন তিনি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি নিয়ে আপাতদৃষ্টিতে সম্রাটের কোনো সমস্যা না হলেও আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা চাওয়ার কারণে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিরাগভাজন হন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সম্রাট বিদেশে চলে যান। সেখান থেকে সরকারের ‘উঁচু মহল’ ম্যানেজ করে দেশে ফিরে এসে আবার তাঁর কাজ করে যেতে থাকেন।

সম্রাট কী করছেন, সেটা সরকারের উচ্চ পর্যায়েও জানা ছিল। সেটার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই। তখন সম্রাটকে নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি রিপোর্টে কৃষিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘এক বছর আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সম্রাটের ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুদিন যাবৎই এটি ওয়াচ করছিলেন। আমাদের বৈঠকে উনি সুপরিকল্পিতভাবে বিষয়টি নেতাদের জানাতে চেয়েছিলেন বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। সেই বৈঠকে তিনি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।’ (বিবিসি বাংলা, ৬ অক্টোবর, ২০১৯)

সম্রাট যে দল করেন, সেই দলের পক্ষ থেকে এই মনোভাব জানার পরও তো আমাদের সম্রাটের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা না করে সম্রাটের জামিন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা আমাদের দেশের ক্ষমতা এবং বিচারব্যবস্থার এক ভয়ংকর ক্ষতকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। জনগণের মনে এই ধারণা প্রবল এবং এর বাস্তবতাও রয়েছে যে, কেউ যদি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হন, তাঁর পক্ষে এই বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া খুব সম্ভব।

সম্রাটের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সেটা। তথাকথিত শুদ্ধি অভিযানের সময় গ্রেপ্তার আরেক আলোচিত ব্যক্তি জি কে শামীম আর সম্রাট কোনো রকম অসুস্থতা ছাড়াই মাসের পর মাস হাসপাতালে আয়েশি জীবন যাপন করতে পেরেছেন। এমনকি মানুষ দেখল ‘ভীষণ অসুস্থ’ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি একজন মানুষ জামিনে মুক্তি পেয়েই ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

শুধু সেটাই নয়, প্রথম আলোর রিপোর্ট থেকেই জানা যায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে সে সময়ে যে চারটি মামলা হয়েছিল, তার একটির (মানি লন্ডারিং) তদন্তই শেষ হয়নি এখনো। তিনটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু চার্জ গঠন হয়নি। বিচারকার্য শুরু হওয়া এখনো অনেক দূরের কথা। এ দেশে বসবাস করে আমাদের মনে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে সম্রাটদের মতো লোকজনকে শেষ পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই যে কদিন তিনি জেলে আছেন, সেটাকে একধরনের শাস্তি হিসাবে দেখে আমরা পরিতৃপ্তি লাভ করতে চেয়েছি। জামিন পেয়ে সম্রাটের বেরিয়ে আসা এ জন্যই ক্ষুব্ধ করেছে আমাদের।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট জামিন পেয়ে কারামুক্ত (পড়ুন হাসপাতাল) হয়েছেন। যে মানুষটিকে কারারুদ্ধ অবস্থায় ‘ভীষণ অসুস্থ হয়ে’ হাসপাতালে থাকতে হচ্ছিল, তিনি মুক্ত হয়ে রীতিমতো ঢাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারামুক্ত হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার সময় অনেক মোটরসাইকেলসহ তাঁর বিরাট ‘শোভাযাত্রা’-এর ফলে ছুটির দিনেও ঢাকার বড় একটি এলাকায় বেশ যানজট লেগে যায়।

এই দফা জামিনের আগেও একবার জামিন পেয়েছিলেন সম্রাট। ১১ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তিন শর্তে জামিন পান তিনি। কিন্তু দুদক হাইকোর্টে গেলে হাইকোর্ট সম্রাটের জামিন বাতিল করে দেন। এতে সম্রাট আর বেরোতে পারেননি।

এ দফা জামিনের পর সম্রাট বেরিয়েছেন, তবে এবারও দুদক উচ্চ আদালতে গেছে জামিন বাতিল করার জন্য। এর ফল কী হবে জানি না, কিন্তু সম্রাটের এখন জামিনে বেরিয়ে আসা, এমনকি আগেরবার জামিন মঞ্জুরের খবরে অনেকের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছিলাম। ফেসবুকে নানা রকম সিরিয়াস মন্তব্যে এবং ট্রলের মাধ্যমে বিষয়টির প্রতিবাদ করছেন অনেকেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, সম্রাট তো তাঁর সব মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে যাননি, জামিন পেয়েছেন মাত্র, তবুও মানুষ এত ক্ষুব্ধ কেন?

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দর্শনে বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজ্ঞ উইলিয়াম ব্ল্যাকস্টোন নির্দেশিত ব্ল্যাকস্টোনস ফরমুলেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এতে বলা হয় একজন নিরপরাধ মানুষের শাস্তি পাওয়ার চেয়ে দশজন অপরাধী মুক্ত হয়ে যাওয়া ভালো। আমরা নিশ্চয়ই বুঝি এই বক্তব্যের গুরুত্ব।

একজন মানুষকে আইনের দৃষ্টিতে তখনই চূড়ান্তভাবে অপরাধী বলা হয়, যখন তিনি নিম্ন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর যদি উচ্চ আদালতে যান এবং সেখানেও তাঁর সাজা বহাল থাকে। বহু ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের সমাজের ভয়ংকর অপরাধীদের চিনি, তাদের অপরাধ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানি। আমরা নিজেরাই অনেকে সেসব অপরাধের সাক্ষীও। তাই বিচারপ্রক্রিয়ার এতগুলো ধাপ আমাদের অনেককে হয়তো ক্ষুব্ধ করে। আমরা অনেকেই ভাবি এত নিশ্চিতভাবে জানা একটি বিষয়ও কেন এত দীর্ঘ আইনিপ্রক্রিয়া লাগবে।

তেমনি চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করা ও মাস্তান-সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ যে সম্রাটের বিরুদ্ধে তিনি আসলে মূল লোক বা ‘মালিক’ নন। এর ওপরে আছেন আরও অনেকে। সম্রাটকে আমরা আরও অনেক কাল জেলে দেখতে চেয়েছিলাম, কারণ আমরা জানি, শুধু সম্রাট নন, তাঁর মতো আরও অনেককে যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা নেই আমাদের। তাঁরা থেকে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই সম্রাটকে ভুগতে দেখে আমাদের সেই আসল ক্ষোভ প্রশমিত হয় কিছুটা হলেও।

আমাদের এই মানসিকতার প্রভাব আমরা দেখি যখন আমরা হাতেনাতে কোনো চোর, ডাকাত কিংবা ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলতে পারি। ভয়ংকরভাবে পিটিয়ে জখম তো করিই আমরা, অনেক সময় মেরেও ফেলি। ঠিক তেমনি কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ কিংবা এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা করে ফেলে, তাহলে আমরা অনেকেই সেটাকেও সমর্থন করি।

কিন্তু একটা আধুনিক রাষ্ট্র বলতে আমরা বুঝি সেটা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে যা ভয়ংকরতম অপরাধে অভিযুক্ত মানুষকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেবে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে আমাদের হাতে থাকা প্রমাণ, এমনকি সমাজে প্রচলিত ধারণা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে নিশ্চয়ই, কিন্তু সেটা কোনোভাবেই কাউকে অপরাধী হিসাবে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে না। এই বিচারিক পদ্ধতিকে যদি আমরা মেনে নিই, তাহলে সব ধাপ পেরিয়ে যেকোনো মানুষ অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে অপরাধী হিসাবে নিশ্চিত হওয়ার আগে জেলে থাকা তার ওপর আপাতদৃষ্টিতে অন্যায় বলেই মনে হওয়ার কথা।

ফৌজদারি মামলাগুলোকে আবার জামিনযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। খুব জরুরি কোনো বিষয় না থাকলে জামিনযোগ্য মামলাগুলোতে জামিন দেওয়াই রীতি। এমনকি জামিন অযোগ্য যেসব মামলা, সেসব মামলার ক্ষেত্রেও বিচারক চাইলে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। ফৌজদারি মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারক এটা বিবেচনায় নেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মুক্ত থাকলে মামলার বাদীর প্রতি কোন হুমকি তৈরি করবেন কি না, তিনি পালিয়ে যাবেন কি না কিংবা মামলার তদন্ত প্রভাবিত করবেন কি না ইত্যাদি। এমন সম্ভাবনা না থাকলে সাধারণত জামিন দিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যক্তির লিঙ্গ, বয়স, সামাজিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এসব বিষয়ও জামিনের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে।

সাধারণভাবে আমাদের চাওয়া উচিত কোনো মানুষ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত যেন জেলে না থাকেন। একটি অবস্থা কল্পনা করা যাক। কোনো একটি ফৌজদারি মামলায় একজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন এবং জামিন পাননি বা বেশ পরে পেয়েছেন। এই মামলায় তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাঁকে দেওয়া কারাদণ্ড তাঁর মামলা চলাকালে কারাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। কিন্তু কেউ যদি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে সেই মানুষটি যত দিন জেলে ছিলেন, সে সময়ের ক্ষতি তাঁর জীবনে কি কোনোভাবে পূরণ হয়? আমরা এমন একটি দেশে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যেখানে ব্যক্তি পর্যায়ে এবং সরকারের দিক থেকে বিরোধীদের ওপর নানা নিপীড়নমূলক ভুয়া মামলার ভীষণ ছড়াছড়ি।

আমরা যদি একটি আধুনিক, উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা ভাবি, তাহলে আমাদের সবার উচিত হবে সমাজের সবচেয়ে নিন্দিত ভয়ংকর মানুষটাও যেন ন্যায়বিচার পান। তিনিও যেন রাষ্ট্রের অবিচারের শিকার না হন। আমাদের চাওয়ার কথা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার আগে কেউ যেন কারাভোগ না করেন।

এই শহরে চোখ-কান খোলা রাখা মানুষমাত্রই সম্রাট সম্পর্কে জানেন দীর্ঘদিন থেকেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটির চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির মূল নেতৃত্ব দিতেন সম্রাট, এটা একরকম জানাই ছিল। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস আগে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা চেয়ে পত্রিকায় খবরও হয়েছিলেন তিনি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি নিয়ে আপাতদৃষ্টিতে সম্রাটের কোনো সমস্যা না হলেও আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা চাওয়ার কারণে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিরাগভাজন হন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সম্রাট বিদেশে চলে যান। সেখান থেকে সরকারের ‘উঁচু মহল’ ম্যানেজ করে দেশে ফিরে এসে আবার তাঁর কাজ করে যেতে থাকেন।

সম্রাট কী করছেন, সেটা সরকারের উচ্চ পর্যায়েও জানা ছিল। সেটার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই। তখন সম্রাটকে নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি রিপোর্টে কৃষিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘এক বছর আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সম্রাটের ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুদিন যাবৎই এটি ওয়াচ করছিলেন। আমাদের বৈঠকে উনি সুপরিকল্পিতভাবে বিষয়টি নেতাদের জানাতে চেয়েছিলেন বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। সেই বৈঠকে তিনি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।’ (বিবিসি বাংলা, ৬ অক্টোবর, ২০১৯)

সম্রাট যে দল করেন, সেই দলের পক্ষ থেকে এই মনোভাব জানার পরও তো আমাদের সম্রাটের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা না করে সম্রাটের জামিন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা আমাদের দেশের ক্ষমতা এবং বিচারব্যবস্থার এক ভয়ংকর ক্ষতকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। জনগণের মনে এই ধারণা প্রবল এবং এর বাস্তবতাও রয়েছে যে, কেউ যদি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হন, তাঁর পক্ষে এই বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া খুব সম্ভব।

সম্রাটের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সেটা। তথাকথিত শুদ্ধি অভিযানের সময় গ্রেপ্তার আরেক আলোচিত ব্যক্তি জি কে শামীম আর সম্রাট কোনো রকম অসুস্থতা ছাড়াই মাসের পর মাস হাসপাতালে আয়েশি জীবন যাপন করতে পেরেছেন। এমনকি মানুষ দেখল ‘ভীষণ অসুস্থ’ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি একজন মানুষ জামিনে মুক্তি পেয়েই ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

শুধু সেটাই নয়, প্রথম আলোর রিপোর্ট থেকেই জানা যায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে সে সময়ে যে চারটি মামলা হয়েছিল, তার একটির (মানি লন্ডারিং) তদন্তই শেষ হয়নি এখনো। তিনটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু চার্জ গঠন হয়নি। বিচারকার্য শুরু হওয়া এখনো অনেক দূরের কথা। এ দেশে বসবাস করে আমাদের মনে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে সম্রাটদের মতো লোকজনকে শেষ পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই যে কদিন তিনি জেলে আছেন, সেটাকে একধরনের শাস্তি হিসাবে দেখে আমরা পরিতৃপ্তি লাভ করতে চেয়েছি। জামিন পেয়ে সম্রাটের বেরিয়ে আসা এ জন্যই ক্ষুব্ধ করেছে আমাদের।

পূর্বের সংবাদ

জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

পরের সংবাদ

বাড়ি-ভিটা আর রেশনের কাছে বন্দী চা–শ্রমিক

Deshbangla Pratidin

Deshbangla Pratidin

Test biogaphy

এই বিষয়ের আরও সংবাদ পড়ুন

মেহেরপুরে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১
Uncategorized

মেহেরপুরে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১

January 30, 2026
6
উত্তরায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যু চৌদ্দগ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে ৩ জনকে,
Uncategorized

উত্তরায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যু চৌদ্দগ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে ৩ জনকে,

January 18, 2026
3
জামায়াতে আমীর নির্বাচন,মদনসহ ৫ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত।
Uncategorized

জামায়াতে আমীর নির্বাচন,মদনসহ ৫ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত।

October 17, 2025
26
মধ্যনগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার।
News

মধ্যনগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার।

October 16, 2025
13
নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নে বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
Uncategorized

নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নে বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

October 11, 2025
6
মোড়লগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
Uncategorized

মোড়লগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

September 30, 2025
1
পরের সংবাদ
‘শনিবার বিকেল’ কিংবা গল্প বলা মুক্ত হোক

বাড়ি-ভিটা আর রেশনের কাছে বন্দী চা–শ্রমিক

‘শনিবার বিকেল’ কিংবা গল্প বলা মুক্ত হোক

ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়াকে যেভাবে ঋণী করছে ইরান

এই post বিষয়ে আলোচনা করুন

Stay Connected test

  • 23.9k Followers
  • 99 Subscribers
  • জনপ্রিয়
  • মন্তব্যসমূহ
  • সর্বশেষ
ধর্মপাশায় বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষ থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ধর্মপাশায় বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষ থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

September 23, 2025
গাইবান্ধা এন এইচ মডান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দায়ের

গাইবান্ধা এন এইচ মডান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দায়ের

October 21, 2025

দেশের বাজারে নতুন গেমিং ল্যাপটপ

September 22, 2025
নেত্রকোণায় তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ফুটবল প্রতিযোগিতায় নেত্রকোণা জেলা দল বিজয়ী

নেত্রকোণায় তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ফুটবল প্রতিযোগিতায় নেত্রকোণা জেলা দল বিজয়ী

September 17, 2025
নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

0
১১ দলীয় জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে দেশে গুণগত পরিবর্তন হবে

১১ দলীয় জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে দেশে গুণগত পরিবর্তন হবে

0
রংপুরে হোটেল তাওহীদ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের উদ্বোধন 

রংপুরে হোটেল তাওহীদ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের উদ্বোধন 

0
বাহুবলে অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযান

বাহুবলে অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযান

0
নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

February 4, 2026
চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

February 4, 2026
মধ্যনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা জব্দ, মাদক কারবারি গ্রেফতার।

মধ্যনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা জব্দ, মাদক কারবারি গ্রেফতার।

February 4, 2026
‎কোরআন–সুন্নাহ ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত

‎কোরআন–সুন্নাহ ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত

February 4, 2026

Recent News

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

February 4, 2026
16
চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

February 4, 2026
1
মধ্যনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা জব্দ, মাদক কারবারি গ্রেফতার।

মধ্যনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা জব্দ, মাদক কারবারি গ্রেফতার।

February 4, 2026
12
‎কোরআন–সুন্নাহ ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত

‎কোরআন–সুন্নাহ ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত

February 4, 2026
5
ঠিকানা:
বাড়ি ২২, দ্বিতীয় তলা, ব্লক এ,
দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোড,
খিলগাঁও, ঢাকা ১২১৯
ফোন:
+৮৮০১৯২৮৮৯৮৫৫৮
ইমেইল:
admin@deshbanglapratidin.com
editordeshbanglapratidin@gmail.com
newsalldbp@gmail.com
Image
এ.এম.সারোয়ার জাহান
প্রকাশক ও সম্পাদক

Follow Us

📰 News Archives

Recent News

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

February 4, 2026
চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

February 4, 2026
  • About
  • Advertise
  • Privacy & Policy
  • Contact

© 2025 Desh Bangla Protidin — Theme designed & developed by SA Shuvo Sheikh . All rights reserved.

কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি
সকল ফলাফল দেখুন
  • প্রথম পাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • বিভাগীয় সংবাদ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • রংপুর
    • ময়মনসিংহ
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • সিলেট
  • শিক্ষা
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • অন্যান্য
    • বিনোদন
  • Login
  • Sign Up

© 2025 Desh Bangla Protidin — Theme designed & developed by SA Shuvo Sheikh . All rights reserved.

Welcome Back!

Sign In with Facebook
Sign In with Google
OR

Login to your account below

Forgotten Password? Sign Up

Create New Account!

Sign Up with Facebook
Sign Up with Google
OR

Fill the forms bellow to register

*By registering into our website, you agree to the Terms & Conditions and Privacy Policy.
All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
দেশ বাংলা প্রতিদিন ওয়েবসাইটটি আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য কুকি (cookies) ব্যবহার করে। এই নীতিমালায় আমরা ব্যাখ্যা করছি কীভাবে আমরা কুকি ব্যবহার করি, আপনি কীভাবে কুকি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, এবং আপনার গোপনীয়তা রক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতি। Privacy and Cookie Policy.