• About us
  • Privacy Policy
  • Contact
  • Team
Sunday, 19 April, 2026
  • Login
  • Register
দেশবাংলা প্রতিদিন
Advertisement
  • Home
    • Home – Layout 1
    • Home – Layout 2
    • Home – Layout 3
    • Home – Layout 4
    • Home – Layout 5
    • Home – Layout 6
  • News
  • Tech
  • Entertainment
  • Lifestyle
  • Review
কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি
সকল ফলাফল দেখুন
দেশবাংলা প্রতিদিন
  • Home
    • Home – Layout 1
    • Home – Layout 2
    • Home – Layout 3
    • Home – Layout 4
    • Home – Layout 5
    • Home – Layout 6
  • News
  • Tech
  • Entertainment
  • Lifestyle
  • Review
Sunday, 19 April, 2026
কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি
সকল ফলাফল দেখুন
দেশবাংলা প্রতিদিন
কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি
সকল ফলাফল দেখুন
  • হোম
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • বিনোদন
  • ধর্ম
  • অন্যান্য
  • আমাদের পরিবার
প্রথম পাতা Uncategorized

ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়াকে যেভাবে ঋণী করছে ইরান

Deshbangla Pratidin প্রকাশক Deshbangla Pratidin
4 years আগে প্রকাশিত |
ক্যাটাগরি Uncategorized
পড়তে সময় লাগবে: 2 মিনিট
A A
0
‘শনিবার বিকেল’ কিংবা গল্প বলা মুক্ত হোক
0
শেয়ার হয়েছে
0
দেখেছেন
Share on FacebookShare on Twitter

ইউক্রেন যুদ্ধ একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করছে। কিন্তু সেই দেশ রাশিয়া কিংবা ইউক্রেন নয়, দেশটি হলো ইরান। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো দেশ এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করতে পারছে, সেটা বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে যে ইউক্রেনের অর্জন খুব সামান্য, কিন্তু ইরান দীর্ঘমেয়াদি সব অর্জনই করতে পারছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েছে। এ যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাদের প্রাণ ও সামরিক শক্তিক্ষয় অব্যাহত আছে। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংযোগ ও সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে জয়ের জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইরানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষার দাওয়াই নিচ্ছেন। সিরিয়ার জন্যও ইরানের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে পুতিনকে। ২০১৫ সাল থেকে রাশিয়ার সেনারা বাশার আল আসাদের সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন।

পুতিনের এই পদক্ষেপ ইরানকে জাতীয় স্বার্থসিদ্ধিতে সহযোগিতা করছে।

সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের নেতারা মনে করে আসছেন, সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নেতারা তাঁদের জাতীয় স্বার্থ, যেমন অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক বৈধতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিপত্তি ও প্রভাব অর্জনের পথে ওয়াশিংটনের নেতাদের সবচেয়ে বড় হুমকি ও বাধা বলে মনে করেন।

ইরানের নেতাদের এই ভয় অমূলক নয়। ইরান বিষয়ে নাকগলানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য বৈরিতা অব্যাহত রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে ঘরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এখন ইরানের কাছ থেকে মস্কো অস্ত্র আমদানি করছে। এ ঘটনা অবশ্যই মস্কো যে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে, সেটার চিহ্ন। তেহরান নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অস্ত্র উৎপাদন করে আসছিল। মস্কো অস্ত্রে নেওয়ায় তেহরানের অস্ত্রশিল্প বৈশ্বিক বৈধতা পেল।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সেনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ইরান ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হটানো ও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে চেষ্টা করে আসছে। যদিও ইরানের আরও বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে পরিচালিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যাতে ধসে পড়ে, সেটা মনেপ্রাণে চান ইরানের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব কমাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা আছে, এমন রাষ্ট্র কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, অর্থ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দেশনা দিয়ে এসব গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে তেহরান।
ইরানের পৃষ্ঠপোষকতা পায়, এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আছে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামি জিহাদ, ইরাকের সশস্ত্র যোদ্ধা ও হুতি বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনের আনসার আল্লাহ। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং তাদের রাজনৈতিক শক্তিকে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করে ইরান। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক কিংবা ইয়েমেনে ইরানের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন সরকার গঠনে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও পশ্চিমাপন্থী দেশ, যেমন ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহার করে ইরান।

জাতীয় স্তরে ইরান কোনো দেশের সঙ্গেই স্থায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে না। ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র হলো সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিপরীত বিকল্প রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ দেশগুলো একে অন্যকে সহযোগিতা করে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে খর্ব করতে এবং পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে বের হয়ে আসতে এই সহযোগিতা কাজে লাগানো হয়।

মস্কোকে যেভাবে উদ্ধার করছে তেহরান

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশের সমর্থন পেয়েছে। রাজনৈতিকভাবে পুতিনের একঘরে অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কাজে লাগানো সম্ভব, এমন উপলব্ধি গুটিকয় নেতার মধ্যে হয়েছে। এর মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অন্যতম। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সব সময়ই জটিল। সিরিয়ার দৃষ্টান্ত দেখা যাক। ইরান ও রাশিয়া দুই দেশই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সহায়তা করছে, যাতে তিনি বিরোধীদের পরাস্ত করতে পারেন। যদিও সিরিয়ার ক্ষেত্রে মস্কো ও তেহরানের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আসাদ সরকারকে সহায়তা করছে। আর ইরানের ক্ষেত্রে সিরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব মানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী জোটকে শক্তিশালী করা। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নের লাভজনক কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। দুই দেশই তাদের পক্ষে যায়, এমন একটা পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই সিরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রণের মতো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। ঘটনাদৃষ্টে মনে হয়, কখনো রাশিয়া আবার কখনো ইরান-সমর্থিতরা জয়ী হয়। আবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান দুইভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, যুদ্ধের জন্য সিরিয়া থেকে সেনাদের সরিয়ে ইউক্রেন নিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সেনারা সেই শূন্যস্থান পূরণ করে রাশিয়াকে সহযোগিতা করছে। দ্বিতীয়ত, ইরান থেকে রাশিয়া সস্তায় ও যুদ্ধে কার্যকর ড্রোন নিতে চায়। ইউক্রেনকে পশ্চিমারা অগ্রসর প্রযুক্তির ড্রোন দিচ্ছে। ইরানের ড্রোন পেলে নিজেদের যুদ্ধসামর্থ্য বাড়াতে পারবে রাশিয়া।

জুলাই মাসে ইরানে রাশিয়ার সেনা কর্মকর্তাদের শহীদ-১২৯ ও শহীদ-১৯১ ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা সূত্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া এরই মধ্যে ইরানের ড্রোন ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

ইরান-রাশিয়ার এই উষ্ণ সম্পর্ক ইউক্রেনকে পরাজিত করতে মস্কোকে খুব বেশি সহযোগিতা করবে না। কিন্তু ইরানের জাতীয় স্বার্থসিদ্ধিতে অনেকটাই সহায়তা করবে। প্রথমত, সিরিয়া থেকে রাশিয়া সেনা সরিয়ে নেওয়ায় দেশটিতে এখন ইরানের প্রভাব অনেক বাড়বে। আসাদবিরোধী বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী সিরিয়ার বড় একটা অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে ইরান এমন একটা মুক্ত করিডর তৈরি করতে সক্ষম হবে, যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রাশিয়ার অস্ত্রের চাহিদা ইরানের অস্ত্রশিল্পের বড় ধরনের বিকাশ হবে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো দেশে ইরান অস্ত্র বিক্রি করতে পারেনি। রাশিয়া তাদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এখন ইরানের কাছ থেকে মস্কো অস্ত্র আমদানি করছে। এ ঘটনা অবশ্যই মস্কো যে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে, সেটার চিহ্ন। তেহরান নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অস্ত্র উৎপাদন করে আসছিল। মস্কো অস্ত্রে নেওয়ায় তেহরানের অস্ত্রশিল্প বৈশ্বিক বৈধতা পেল।

পরিশেষে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরেশিয়া অঞ্চলে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করার একটা সরাসরি পথ খুলে দিল। ইরানের রকেটব্যবস্থা, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আত্মঘাতী ড্রোনের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে

  • অ্যারন পিলকিংটন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী বিষয়ে বিশ্লেষক

ইউক্রেন যুদ্ধ একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করছে। কিন্তু সেই দেশ রাশিয়া কিংবা ইউক্রেন নয়, দেশটি হলো ইরান। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো দেশ এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করতে পারছে, সেটা বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে যে ইউক্রেনের অর্জন খুব সামান্য, কিন্তু ইরান দীর্ঘমেয়াদি সব অর্জনই করতে পারছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েছে। এ যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাদের প্রাণ ও সামরিক শক্তিক্ষয় অব্যাহত আছে। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংযোগ ও সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে জয়ের জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইরানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষার দাওয়াই নিচ্ছেন। সিরিয়ার জন্যও ইরানের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে পুতিনকে। ২০১৫ সাল থেকে রাশিয়ার সেনারা বাশার আল আসাদের সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন।

পুতিনের এই পদক্ষেপ ইরানকে জাতীয় স্বার্থসিদ্ধিতে সহযোগিতা করছে।

সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের নেতারা মনে করে আসছেন, সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নেতারা তাঁদের জাতীয় স্বার্থ, যেমন অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক বৈধতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিপত্তি ও প্রভাব অর্জনের পথে ওয়াশিংটনের নেতাদের সবচেয়ে বড় হুমকি ও বাধা বলে মনে করেন।

ইরানের নেতাদের এই ভয় অমূলক নয়। ইরান বিষয়ে নাকগলানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য বৈরিতা অব্যাহত রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে ঘরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এখন ইরানের কাছ থেকে মস্কো অস্ত্র আমদানি করছে। এ ঘটনা অবশ্যই মস্কো যে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে, সেটার চিহ্ন। তেহরান নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অস্ত্র উৎপাদন করে আসছিল। মস্কো অস্ত্রে নেওয়ায় তেহরানের অস্ত্রশিল্প বৈশ্বিক বৈধতা পেল।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সেনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ইরান ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হটানো ও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে চেষ্টা করে আসছে। যদিও ইরানের আরও বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে পরিচালিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যাতে ধসে পড়ে, সেটা মনেপ্রাণে চান ইরানের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব কমাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা আছে, এমন রাষ্ট্র কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, অর্থ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দেশনা দিয়ে এসব গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে তেহরান।
ইরানের পৃষ্ঠপোষকতা পায়, এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আছে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামি জিহাদ, ইরাকের সশস্ত্র যোদ্ধা ও হুতি বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনের আনসার আল্লাহ। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং তাদের রাজনৈতিক শক্তিকে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করে ইরান। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক কিংবা ইয়েমেনে ইরানের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন সরকার গঠনে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও পশ্চিমাপন্থী দেশ, যেমন ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহার করে ইরান।

জাতীয় স্তরে ইরান কোনো দেশের সঙ্গেই স্থায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে না। ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র হলো সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিপরীত বিকল্প রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ দেশগুলো একে অন্যকে সহযোগিতা করে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে খর্ব করতে এবং পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে বের হয়ে আসতে এই সহযোগিতা কাজে লাগানো হয়।

মস্কোকে যেভাবে উদ্ধার করছে তেহরান

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশের সমর্থন পেয়েছে। রাজনৈতিকভাবে পুতিনের একঘরে অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কাজে লাগানো সম্ভব, এমন উপলব্ধি গুটিকয় নেতার মধ্যে হয়েছে। এর মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অন্যতম। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সব সময়ই জটিল। সিরিয়ার দৃষ্টান্ত দেখা যাক। ইরান ও রাশিয়া দুই দেশই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সহায়তা করছে, যাতে তিনি বিরোধীদের পরাস্ত করতে পারেন। যদিও সিরিয়ার ক্ষেত্রে মস্কো ও তেহরানের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আসাদ সরকারকে সহায়তা করছে। আর ইরানের ক্ষেত্রে সিরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব মানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী জোটকে শক্তিশালী করা। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নের লাভজনক কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। দুই দেশই তাদের পক্ষে যায়, এমন একটা পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই সিরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রণের মতো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। ঘটনাদৃষ্টে মনে হয়, কখনো রাশিয়া আবার কখনো ইরান-সমর্থিতরা জয়ী হয়। আবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান দুইভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, যুদ্ধের জন্য সিরিয়া থেকে সেনাদের সরিয়ে ইউক্রেন নিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সেনারা সেই শূন্যস্থান পূরণ করে রাশিয়াকে সহযোগিতা করছে। দ্বিতীয়ত, ইরান থেকে রাশিয়া সস্তায় ও যুদ্ধে কার্যকর ড্রোন নিতে চায়। ইউক্রেনকে পশ্চিমারা অগ্রসর প্রযুক্তির ড্রোন দিচ্ছে। ইরানের ড্রোন পেলে নিজেদের যুদ্ধসামর্থ্য বাড়াতে পারবে রাশিয়া।

জুলাই মাসে ইরানে রাশিয়ার সেনা কর্মকর্তাদের শহীদ-১২৯ ও শহীদ-১৯১ ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা সূত্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া এরই মধ্যে ইরানের ড্রোন ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

ইরান-রাশিয়ার এই উষ্ণ সম্পর্ক ইউক্রেনকে পরাজিত করতে মস্কোকে খুব বেশি সহযোগিতা করবে না। কিন্তু ইরানের জাতীয় স্বার্থসিদ্ধিতে অনেকটাই সহায়তা করবে। প্রথমত, সিরিয়া থেকে রাশিয়া সেনা সরিয়ে নেওয়ায় দেশটিতে এখন ইরানের প্রভাব অনেক বাড়বে। আসাদবিরোধী বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী সিরিয়ার বড় একটা অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে ইরান এমন একটা মুক্ত করিডর তৈরি করতে সক্ষম হবে, যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রাশিয়ার অস্ত্রের চাহিদা ইরানের অস্ত্রশিল্পের বড় ধরনের বিকাশ হবে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো দেশে ইরান অস্ত্র বিক্রি করতে পারেনি। রাশিয়া তাদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এখন ইরানের কাছ থেকে মস্কো অস্ত্র আমদানি করছে। এ ঘটনা অবশ্যই মস্কো যে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে, সেটার চিহ্ন। তেহরান নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অস্ত্র উৎপাদন করে আসছিল। মস্কো অস্ত্রে নেওয়ায় তেহরানের অস্ত্রশিল্প বৈশ্বিক বৈধতা পেল।

পরিশেষে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরেশিয়া অঞ্চলে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করার একটা সরাসরি পথ খুলে দিল। ইরানের রকেটব্যবস্থা, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আত্মঘাতী ড্রোনের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে

  • অ্যারন পিলকিংটন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী বিষয়ে বিশ্লেষক

বিশেষখবর

মেহেরপুরে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১

উত্তরায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যু চৌদ্দগ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে ৩ জনকে,

জামায়াতে আমীর নির্বাচন,মদনসহ ৫ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত।

ইউক্রেন যুদ্ধ একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করছে। কিন্তু সেই দেশ রাশিয়া কিংবা ইউক্রেন নয়, দেশটি হলো ইরান। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো দেশ এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করতে পারছে, সেটা বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে যে ইউক্রেনের অর্জন খুব সামান্য, কিন্তু ইরান দীর্ঘমেয়াদি সব অর্জনই করতে পারছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েছে। এ যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাদের প্রাণ ও সামরিক শক্তিক্ষয় অব্যাহত আছে। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংযোগ ও সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে জয়ের জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইরানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষার দাওয়াই নিচ্ছেন। সিরিয়ার জন্যও ইরানের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে পুতিনকে। ২০১৫ সাল থেকে রাশিয়ার সেনারা বাশার আল আসাদের সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন।

পুতিনের এই পদক্ষেপ ইরানকে জাতীয় স্বার্থসিদ্ধিতে সহযোগিতা করছে।

সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের নেতারা মনে করে আসছেন, সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নেতারা তাঁদের জাতীয় স্বার্থ, যেমন অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক বৈধতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিপত্তি ও প্রভাব অর্জনের পথে ওয়াশিংটনের নেতাদের সবচেয়ে বড় হুমকি ও বাধা বলে মনে করেন।

ইরানের নেতাদের এই ভয় অমূলক নয়। ইরান বিষয়ে নাকগলানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য বৈরিতা অব্যাহত রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে ঘরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এখন ইরানের কাছ থেকে মস্কো অস্ত্র আমদানি করছে। এ ঘটনা অবশ্যই মস্কো যে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে, সেটার চিহ্ন। তেহরান নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অস্ত্র উৎপাদন করে আসছিল। মস্কো অস্ত্রে নেওয়ায় তেহরানের অস্ত্রশিল্প বৈশ্বিক বৈধতা পেল।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সেনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ইরান ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হটানো ও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে চেষ্টা করে আসছে। যদিও ইরানের আরও বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে পরিচালিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যাতে ধসে পড়ে, সেটা মনেপ্রাণে চান ইরানের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব কমাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা আছে, এমন রাষ্ট্র কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, অর্থ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দেশনা দিয়ে এসব গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে তেহরান।
ইরানের পৃষ্ঠপোষকতা পায়, এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আছে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামি জিহাদ, ইরাকের সশস্ত্র যোদ্ধা ও হুতি বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনের আনসার আল্লাহ। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং তাদের রাজনৈতিক শক্তিকে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করে ইরান। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক কিংবা ইয়েমেনে ইরানের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন সরকার গঠনে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও পশ্চিমাপন্থী দেশ, যেমন ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহার করে ইরান।

জাতীয় স্তরে ইরান কোনো দেশের সঙ্গেই স্থায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে না। ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র হলো সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিপরীত বিকল্প রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ দেশগুলো একে অন্যকে সহযোগিতা করে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে খর্ব করতে এবং পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে বের হয়ে আসতে এই সহযোগিতা কাজে লাগানো হয়।

মস্কোকে যেভাবে উদ্ধার করছে তেহরান

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশের সমর্থন পেয়েছে। রাজনৈতিকভাবে পুতিনের একঘরে অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কাজে লাগানো সম্ভব, এমন উপলব্ধি গুটিকয় নেতার মধ্যে হয়েছে। এর মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অন্যতম। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সব সময়ই জটিল। সিরিয়ার দৃষ্টান্ত দেখা যাক। ইরান ও রাশিয়া দুই দেশই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সহায়তা করছে, যাতে তিনি বিরোধীদের পরাস্ত করতে পারেন। যদিও সিরিয়ার ক্ষেত্রে মস্কো ও তেহরানের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আসাদ সরকারকে সহায়তা করছে। আর ইরানের ক্ষেত্রে সিরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব মানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী জোটকে শক্তিশালী করা। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নের লাভজনক কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। দুই দেশই তাদের পক্ষে যায়, এমন একটা পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই সিরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রণের মতো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। ঘটনাদৃষ্টে মনে হয়, কখনো রাশিয়া আবার কখনো ইরান-সমর্থিতরা জয়ী হয়। আবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান দুইভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, যুদ্ধের জন্য সিরিয়া থেকে সেনাদের সরিয়ে ইউক্রেন নিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সেনারা সেই শূন্যস্থান পূরণ করে রাশিয়াকে সহযোগিতা করছে। দ্বিতীয়ত, ইরান থেকে রাশিয়া সস্তায় ও যুদ্ধে কার্যকর ড্রোন নিতে চায়। ইউক্রেনকে পশ্চিমারা অগ্রসর প্রযুক্তির ড্রোন দিচ্ছে। ইরানের ড্রোন পেলে নিজেদের যুদ্ধসামর্থ্য বাড়াতে পারবে রাশিয়া।

জুলাই মাসে ইরানে রাশিয়ার সেনা কর্মকর্তাদের শহীদ-১২৯ ও শহীদ-১৯১ ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা সূত্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া এরই মধ্যে ইরানের ড্রোন ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

ইরান-রাশিয়ার এই উষ্ণ সম্পর্ক ইউক্রেনকে পরাজিত করতে মস্কোকে খুব বেশি সহযোগিতা করবে না। কিন্তু ইরানের জাতীয় স্বার্থসিদ্ধিতে অনেকটাই সহায়তা করবে। প্রথমত, সিরিয়া থেকে রাশিয়া সেনা সরিয়ে নেওয়ায় দেশটিতে এখন ইরানের প্রভাব অনেক বাড়বে। আসাদবিরোধী বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী সিরিয়ার বড় একটা অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে ইরান এমন একটা মুক্ত করিডর তৈরি করতে সক্ষম হবে, যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রাশিয়ার অস্ত্রের চাহিদা ইরানের অস্ত্রশিল্পের বড় ধরনের বিকাশ হবে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো দেশে ইরান অস্ত্র বিক্রি করতে পারেনি। রাশিয়া তাদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এখন ইরানের কাছ থেকে মস্কো অস্ত্র আমদানি করছে। এ ঘটনা অবশ্যই মস্কো যে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে, সেটার চিহ্ন। তেহরান নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অস্ত্র উৎপাদন করে আসছিল। মস্কো অস্ত্রে নেওয়ায় তেহরানের অস্ত্রশিল্প বৈশ্বিক বৈধতা পেল।

পরিশেষে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরেশিয়া অঞ্চলে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করার একটা সরাসরি পথ খুলে দিল। ইরানের রকেটব্যবস্থা, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আত্মঘাতী ড্রোনের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে

  • অ্যারন পিলকিংটন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী বিষয়ে বিশ্লেষক

ইউক্রেন যুদ্ধ একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করছে। কিন্তু সেই দেশ রাশিয়া কিংবা ইউক্রেন নয়, দেশটি হলো ইরান। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো দেশ এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করতে পারছে, সেটা বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে যে ইউক্রেনের অর্জন খুব সামান্য, কিন্তু ইরান দীর্ঘমেয়াদি সব অর্জনই করতে পারছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েছে। এ যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাদের প্রাণ ও সামরিক শক্তিক্ষয় অব্যাহত আছে। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংযোগ ও সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে জয়ের জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইরানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষার দাওয়াই নিচ্ছেন। সিরিয়ার জন্যও ইরানের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে পুতিনকে। ২০১৫ সাল থেকে রাশিয়ার সেনারা বাশার আল আসাদের সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন।

পুতিনের এই পদক্ষেপ ইরানকে জাতীয় স্বার্থসিদ্ধিতে সহযোগিতা করছে।

সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের নেতারা মনে করে আসছেন, সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নেতারা তাঁদের জাতীয় স্বার্থ, যেমন অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক বৈধতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিপত্তি ও প্রভাব অর্জনের পথে ওয়াশিংটনের নেতাদের সবচেয়ে বড় হুমকি ও বাধা বলে মনে করেন।

ইরানের নেতাদের এই ভয় অমূলক নয়। ইরান বিষয়ে নাকগলানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য বৈরিতা অব্যাহত রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে ঘরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এখন ইরানের কাছ থেকে মস্কো অস্ত্র আমদানি করছে। এ ঘটনা অবশ্যই মস্কো যে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে, সেটার চিহ্ন। তেহরান নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অস্ত্র উৎপাদন করে আসছিল। মস্কো অস্ত্রে নেওয়ায় তেহরানের অস্ত্রশিল্প বৈশ্বিক বৈধতা পেল।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সেনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ইরান ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হটানো ও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে চেষ্টা করে আসছে। যদিও ইরানের আরও বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে পরিচালিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যাতে ধসে পড়ে, সেটা মনেপ্রাণে চান ইরানের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব কমাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা আছে, এমন রাষ্ট্র কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, অর্থ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দেশনা দিয়ে এসব গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে তেহরান।
ইরানের পৃষ্ঠপোষকতা পায়, এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আছে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামি জিহাদ, ইরাকের সশস্ত্র যোদ্ধা ও হুতি বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনের আনসার আল্লাহ। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং তাদের রাজনৈতিক শক্তিকে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করে ইরান। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক কিংবা ইয়েমেনে ইরানের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন সরকার গঠনে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও পশ্চিমাপন্থী দেশ, যেমন ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহার করে ইরান।

জাতীয় স্তরে ইরান কোনো দেশের সঙ্গেই স্থায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে না। ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র হলো সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিপরীত বিকল্প রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ দেশগুলো একে অন্যকে সহযোগিতা করে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে খর্ব করতে এবং পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে বের হয়ে আসতে এই সহযোগিতা কাজে লাগানো হয়।

মস্কোকে যেভাবে উদ্ধার করছে তেহরান

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশের সমর্থন পেয়েছে। রাজনৈতিকভাবে পুতিনের একঘরে অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে কাজে লাগানো সম্ভব, এমন উপলব্ধি গুটিকয় নেতার মধ্যে হয়েছে। এর মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অন্যতম। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সব সময়ই জটিল। সিরিয়ার দৃষ্টান্ত দেখা যাক। ইরান ও রাশিয়া দুই দেশই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সহায়তা করছে, যাতে তিনি বিরোধীদের পরাস্ত করতে পারেন। যদিও সিরিয়ার ক্ষেত্রে মস্কো ও তেহরানের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আসাদ সরকারকে সহায়তা করছে। আর ইরানের ক্ষেত্রে সিরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব মানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী জোটকে শক্তিশালী করা। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নের লাভজনক কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। দুই দেশই তাদের পক্ষে যায়, এমন একটা পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই সিরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রণের মতো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। ঘটনাদৃষ্টে মনে হয়, কখনো রাশিয়া আবার কখনো ইরান-সমর্থিতরা জয়ী হয়। আবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান দুইভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, যুদ্ধের জন্য সিরিয়া থেকে সেনাদের সরিয়ে ইউক্রেন নিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সেনারা সেই শূন্যস্থান পূরণ করে রাশিয়াকে সহযোগিতা করছে। দ্বিতীয়ত, ইরান থেকে রাশিয়া সস্তায় ও যুদ্ধে কার্যকর ড্রোন নিতে চায়। ইউক্রেনকে পশ্চিমারা অগ্রসর প্রযুক্তির ড্রোন দিচ্ছে। ইরানের ড্রোন পেলে নিজেদের যুদ্ধসামর্থ্য বাড়াতে পারবে রাশিয়া।

জুলাই মাসে ইরানে রাশিয়ার সেনা কর্মকর্তাদের শহীদ-১২৯ ও শহীদ-১৯১ ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা সূত্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া এরই মধ্যে ইরানের ড্রোন ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

ইরান-রাশিয়ার এই উষ্ণ সম্পর্ক ইউক্রেনকে পরাজিত করতে মস্কোকে খুব বেশি সহযোগিতা করবে না। কিন্তু ইরানের জাতীয় স্বার্থসিদ্ধিতে অনেকটাই সহায়তা করবে। প্রথমত, সিরিয়া থেকে রাশিয়া সেনা সরিয়ে নেওয়ায় দেশটিতে এখন ইরানের প্রভাব অনেক বাড়বে। আসাদবিরোধী বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী সিরিয়ার বড় একটা অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে ইরান এমন একটা মুক্ত করিডর তৈরি করতে সক্ষম হবে, যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রাশিয়ার অস্ত্রের চাহিদা ইরানের অস্ত্রশিল্পের বড় ধরনের বিকাশ হবে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো দেশে ইরান অস্ত্র বিক্রি করতে পারেনি। রাশিয়া তাদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এখন ইরানের কাছ থেকে মস্কো অস্ত্র আমদানি করছে। এ ঘটনা অবশ্যই মস্কো যে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে, সেটার চিহ্ন। তেহরান নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য অস্ত্র উৎপাদন করে আসছিল। মস্কো অস্ত্রে নেওয়ায় তেহরানের অস্ত্রশিল্প বৈশ্বিক বৈধতা পেল।

পরিশেষে, ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরেশিয়া অঞ্চলে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করার একটা সরাসরি পথ খুলে দিল। ইরানের রকেটব্যবস্থা, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আত্মঘাতী ড্রোনের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে

  • অ্যারন পিলকিংটন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী বিষয়ে বিশ্লেষক
পূর্বের সংবাদ

বাড়ি-ভিটা আর রেশনের কাছে বন্দী চা–শ্রমিক

পরের সংবাদ

শিপিং করপোরেশনে চাকরির সুযোগ, আবেদন ফি ১০০০

Deshbangla Pratidin

Deshbangla Pratidin

Test biogaphy

এই বিষয়ের আরও সংবাদ পড়ুন

মেহেরপুরে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১
Uncategorized

মেহেরপুরে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১

January 30, 2026
6
উত্তরায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যু চৌদ্দগ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে ৩ জনকে,
Uncategorized

উত্তরায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৬ জনের মৃত্যু চৌদ্দগ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে ৩ জনকে,

January 18, 2026
3
জামায়াতে আমীর নির্বাচন,মদনসহ ৫ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত।
Uncategorized

জামায়াতে আমীর নির্বাচন,মদনসহ ৫ উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত।

October 17, 2025
26
মধ্যনগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার।
News

মধ্যনগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার।

October 16, 2025
13
নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নে বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
Uncategorized

নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নে বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

October 11, 2025
6
মোড়লগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
Uncategorized

মোড়লগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

September 30, 2025
1
পরের সংবাদ
শিপিং করপোরেশনে চাকরির সুযোগ, আবেদন ফি ১০০০

শিপিং করপোরেশনে চাকরির সুযোগ, আবেদন ফি ১০০০

শিপিং করপোরেশনে চাকরির সুযোগ, আবেদন ফি ১০০০

বিসিএসে পরীক্ষাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে পিএসসি

এই post বিষয়ে আলোচনা করুন

Stay Connected test

  • 23.9k Followers
  • 99 Subscribers
  • জনপ্রিয়
  • মন্তব্যসমূহ
  • সর্বশেষ
ধর্মপাশায় বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষ থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ধর্মপাশায় বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষ থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

September 23, 2025
গাইবান্ধা এন এইচ মডান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দায়ের

গাইবান্ধা এন এইচ মডান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দায়ের

October 21, 2025

দেশের বাজারে নতুন গেমিং ল্যাপটপ

September 22, 2025
নেত্রকোণায় তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ফুটবল প্রতিযোগিতায় নেত্রকোণা জেলা দল বিজয়ী

নেত্রকোণায় তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ফুটবল প্রতিযোগিতায় নেত্রকোণা জেলা দল বিজয়ী

September 17, 2025
নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

0
১১ দলীয় জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে দেশে গুণগত পরিবর্তন হবে

১১ দলীয় জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে দেশে গুণগত পরিবর্তন হবে

0
রংপুরে হোটেল তাওহীদ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের উদ্বোধন 

রংপুরে হোটেল তাওহীদ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের উদ্বোধন 

0
বাহুবলে অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযান

বাহুবলে অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযান

0
নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

February 4, 2026
চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

February 4, 2026
মধ্যনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা জব্দ, মাদক কারবারি গ্রেফতার।

মধ্যনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা জব্দ, মাদক কারবারি গ্রেফতার।

February 4, 2026
‎কোরআন–সুন্নাহ ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত

‎কোরআন–সুন্নাহ ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত

February 4, 2026

Recent News

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

February 4, 2026
16
চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

February 4, 2026
1
মধ্যনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা জব্দ, মাদক কারবারি গ্রেফতার।

মধ্যনগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১,৯৬০ পিস ইয়াবা জব্দ, মাদক কারবারি গ্রেফতার।

February 4, 2026
12
‎কোরআন–সুন্নাহ ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত

‎কোরআন–সুন্নাহ ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত

February 4, 2026
5
ঠিকানা:
বাড়ি ২২, দ্বিতীয় তলা, ব্লক এ,
দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোড,
খিলগাঁও, ঢাকা ১২১৯
ফোন:
+৮৮০১৯২৮৮৯৮৫৫৮
ইমেইল:
admin@deshbanglapratidin.com
editordeshbanglapratidin@gmail.com
newsalldbp@gmail.com
Image
এ.এম.সারোয়ার জাহান
প্রকাশক ও সম্পাদক

Follow Us

📰 News Archives

Recent News

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তা’র লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে কারা

February 4, 2026
চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় ডা. তাহের

February 4, 2026
  • About
  • Advertise
  • Privacy & Policy
  • Contact

© 2025 Desh Bangla Protidin — Theme designed & developed by SA Shuvo Sheikh . All rights reserved.

কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি
সকল ফলাফল দেখুন
  • প্রথম পাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • বিভাগীয় সংবাদ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • রংপুর
    • ময়মনসিংহ
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • সিলেট
  • শিক্ষা
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • অন্যান্য
    • বিনোদন
  • Login
  • Sign Up

© 2025 Desh Bangla Protidin — Theme designed & developed by SA Shuvo Sheikh . All rights reserved.

Welcome Back!

Sign In with Facebook
Sign In with Google
OR

Login to your account below

Forgotten Password? Sign Up

Create New Account!

Sign Up with Facebook
Sign Up with Google
OR

Fill the forms bellow to register

*By registering into our website, you agree to the Terms & Conditions and Privacy Policy.
All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
দেশ বাংলা প্রতিদিন ওয়েবসাইটটি আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য কুকি (cookies) ব্যবহার করে। এই নীতিমালায় আমরা ব্যাখ্যা করছি কীভাবে আমরা কুকি ব্যবহার করি, আপনি কীভাবে কুকি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, এবং আপনার গোপনীয়তা রক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতি। Privacy and Cookie Policy.