
আব্দুর রউফ ভুঁইয়া, ব্যুরো প্রধান কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক দুবাই প্রবাসীর পরিবারকে পারিবারিক জেরে খুন জখমের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রবাসীর ভাইদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে পাকুন্দিয়ার একটি বিদ্যালয় কক্ষে উপজেলার শৈলজানী গ্রামের প্রবাসী মো. মজলু মিয়ার স্ত্রী মোছা. রাবেয়া খাতুন তিন সন্তানসহ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় প্রবাসীর তিন সন্তান এসএসসি পরীক্ষার্থী আরাফাত আক্তার মিম, ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. মরিয়ম আক্তার প্রীতি, ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. উমর উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া বলেন, আমার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে আমার দেবর বজলু মিয়া (৪২), রঞ্জু মিয়া (৩৮) ও আল-আমিন (৩২) আমি ও আমার পরিবারকে নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। এমনকি আমাকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) আমার ছোট মেয়ে ও ছেলেকে বাড়িতে রেখে ঐ মামলায় আমি আমার বড় মেয়েকে সাথে নিয়ে কিশোরগঞ্জ কোর্টে হাজিরা দিতে যাই। এসময় বাড়িতে রেখে যাওয়া আমার মেয়ে মরিয়ম আক্তার প্রীতি মুঠোফোনে আমাকে জানায়, তাদের চাচা রঞ্জু মিয়া ও আল-আমিন বসতঘরের জানালা ভাঙচুর করে দরজার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে আমার ছেলে-মেয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিষয়টি আমি ৯৯৯ এ ফোন করে থানা-পুলিশের সহায়তায় ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করি।
আদালতে হাজিরা শেষ করে বাড়িতে গেলে আমার তিন দেবর বজলু মিয়া, রঞ্জ মিয়া ও আল-আমিন আমি ও আমার ছেলে-মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে খুন জখমের হুমকি দিয়ে ঘরে থাকা ৫ভরি স্বর্ণালংলকার (যার মূল্য প্রায় ৫,৫০,০০০/- টাকা), নগদ ৩০হাজার টাকা, জমির দলিল, ব্র্যাকের এফডিআরকপিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাগজ ও ২টি চেকবই নিয়া যায়। আমি প্রতিবাদ করিলে অভিযুক্তরা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া অভিযোগ করে বলেন, বিবাদীদের ভয়ে ছোট-ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়া বাড়ি যেতে পারছি না। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বাড়ি ঘুরছি। আমার বড় মেয়ে আরাফাত আক্তার মিম এসএসসি ২০২৫ ব্যাচের পরীক্ষার্থী বিাবদীরা তার বই গুলোও নিয়ে গেছে। আমার মেয়ের পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে আমার মেয়ের বই ও পড়া-লেখার সুযোগ এবং বিবাদীগণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ আমাদের নিরাপদে বাড়িতে পৌছিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ঘটনার পর প্রবাসীর মোছা. মরিয়ম খাতুন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় মো.বজলু মিয়া (৪২), মো. রঞ্জু মিয়া (৩৮), মো. আল-আমিন (৩২) কে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। সবার বাড়ি শৈলজানি ও পিতার নাম মৃত আ. মন্নাছ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তারা দাবি করছেন, সেখানে প্রবাসী ও তার স্ত্রীর কোনো জমি নেই।
এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন