
রংপুর প্রতিনিধি :
রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় মাদকের নামে বিষাক্ত রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করে একের পর এক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভ। সর্বশেষ বুধবার সকালে আরও তিনজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। ভয়াবহ এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিষাক্ত স্পিরিট কীভাবে বিক্রি হলো, কারা এর পেছনে এবং কেন এতদিন প্রশাসনের নজরের বাইরে ছিল এই মাদক চক্র? এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পুরো রংপুর জেলাকে মাদকমুক্ত করার দাবিতে বদরগঞ্জের শ্যামপুর বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও এলাকাবাসী। সর্বশেষ বুধবার সকালে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন হলেন, জয়নুল আবেদীন (৩৫)। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার শাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপর দুই মৃত ব্যক্তি হলেন, রাশেদুল হক (৪০), রংপুর সদর কোতয়ালী থানার শ্যামপুর, কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মালেক মিয়া (৪৫), বদরগঞ্জ থানার ইসামত বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার এসব মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এর আগেও এ ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয় সোমবার গভীর রাতে। নিহতদের লাশ গোপনে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে পুলিশ খবর পেয়ে তা উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে নিহতরা হলেন, আলমগীর হোসেন (৪০), বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে। সোহেল মিয়া (৩২), রফিকুল ইসলামের ছেলে। সায়দার রহমান জিন্দার আলী (৩০), রংপুর সদর কোতয়ালী থানার শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করতেই প্রথমে গোপনে দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে জয়নুল আবেদীন (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১শ’ মিলিলিটারের ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করে।বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকার জানান, গ্রেপ্তারকৃত জয়নুল আবেদীন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে এই রেক্টিফাইড স্পিরিট ‘আজাদ হোমিও হল’ থেকে কিনেছিল। রেক্টিফাইড স্পিরিট কোথা থেকে এবং কীভাবে বাজারে ছড়ালো তা নিয়ে পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, জয়নুল আবেদীনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রেক্টিফাইড স্পিরিটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার বিকেলে বদরগঞ্জের শ্যামপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ছাত্রসমাজ। মিছিল থেকে তারা বিষাক্ত স্পিরিট সরবরাহকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার,মাদক ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শ্যামপুর-বদরগঞ্জসহ পুরো রংপুর জেলা মাদকমুক্ত করার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা বারবার এমন ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। রেক্টিফাইড স্পিরিট কীভাবে বাজারে এলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন