
শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন ব্যুরো প্রধান নওগাঁ জেলা /
নওগাঁর রাণীনগরের কাটরাশইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক দুর্নীতি, বিভিন্ন অনিয়ম এবং অসদাচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ শাহানাজ বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, সহকারি শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার ৪টি গ্রামের শতাধিক ব্যাক্তি স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসার বরাবর জমা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারি শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে চলে আসা অন্ত:দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার্থীসহ ঐতিহ্য হারাতে বসেছে শতবর্ষী এবিদ্যালয়টি। তাই দ্রুতই বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অন্ত:দ্বন্দ্বের নিরসন ঘটিয়ে পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, মনোরম ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক চলতি বছরের মার্চ মাসের ২২ তারিখে ম্যানেজিং কমিটির সভায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছর থেকে ২০২১-২২অর্থ বছর পর্যন্ত মোট ৫ বছরের আয়-ব্যয় উপস্থাপনে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। পরবির্ততে অতিরিক্ত সময় নেওয়ার পরও সঠিক আয়-ব্যয়ের তালিকার মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪লাখ টাকার হিসাব তুলে ধরতে পারেন নাই। তিনি একক ভাবে স্লিপ ও বিদ্যালয় উন্নয়ন এর পরিকল্পনা করেন। মিথ্যে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিল উত্তোলন করেন, বিভিন্ন বিল ও ভাউচারে শিক্ষক প্রতিনিধিসহ অন্য শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করেন। প্রায়ই সহকারি শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। প্রতিনিদিনই ১০টার পর বিদ্যালয়ে আসেন আর সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই অফিসের কাজের অজুহাতে দুপুর পর বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। অভিযোগ পত্রে এরকম ১২টি অনিয়ম উল্লেখ্য করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে স্থানীয় সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশও করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোছাঃ শাহানাজ বেগম বলেন, অভিযোগ পত্রে আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে তা সম্পন্ন মিথ্যে ও বানোয়াট। বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের ইন্ধনে একটি মহল আমাকে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত নানা কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। আমি আমার জায়গায় সঠিক আছি।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি রেজাউল ইসলাম বেলাল বলেন, শাহানাজ বেগম বিদ্যালয়ে ২০১০সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ অন্ত:দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকের পেশীশক্তির জোড়, স্বেচ্ছাচারিতা, সহকারিদের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানা রকমের কর্মকান্ড সেই অন্ত:দ্বন্দ্বকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারি শিক্ষকদের অনেকবার হাতাহাতিসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটেছে যা ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি পাঠদানের সুষ্ঠ পরিবেশও নষ্ট করেছে। এমন অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের শিশুদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি না করিয়ে অন্যত্র ভর্তি করাতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থী হারাচ্ছে বিদ্যালয়টি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এক মেরুর আর অন্য সকল সহকারি শিক্ষকরা আরেক মেরুর বাসিন্দাতে পরিণত হয়েছেন। তাই বিদ্যালয়ের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুতই প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলী করার কোন বিকল্প নেই।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাদিরউজ্জামান বলেন, এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয়ে অভ্যন্তরীণ অন্ত:দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আর সেই অন্ত:দ্বন্দ্বকে স্থানীয় একটি মহল উসকানি দিয়ে আসছে। যার ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুতই বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন