
নিজস্ব প্রতিবেদক এ এম সারোয়ার জাহান:
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমীয়ে আনতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিশেষ নির্দেশনা জারি। রোববার ৫ই মে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব জহিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একনির্দেশনা পত্রে বিষয়টি জানা যায়। বি আর টি এর নির্দেশনায় সড়ক অনুযায়ী প্রাইভেট কার ও বাসের সর্বোচ্চ গতি নির্ধারিত করা হয়েছে প্রতি ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার, এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার। নির্দেশনা পত্রে থেকে আরো জানা যায় মোটর কার. মাইক্রোবাস, জীব, এবং মিনিবাস, বাস ও ভারী যাত্রীবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রে এক্সপ্রেস ওয়েতে ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার।জাতীয় মহাসড়কে ক্যাটাগরি এ ৮০ কিলোমিটার ,জাতীয় ক্যাটাগরি বি আঞ্চলিক মহাসড়কে ৭০ কিলোমিটার ,দেশের জেলা সড়কে ৬০ কিলোমিটার গতিতে পরিবহনগুলো চলবে । অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও জেলা সদরে ৪০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলবে । উপজেলা মহাসড়ক ও শহর এলাকায় এবং প্রাইমারি আরবান সড়কে ৪০ কিলোমিটার ,এছাড়া অন্যান্য ছোটখাটো সড়কগুলোতে ৩০ কিলোমিটার গতিতে যানবাহন চলবে। এছাড়া ছোট এবং বড় ট্রাক পাশাপাশি কাভারভ্যান ও টেইলার যুক্ত আর্টিকুলেটেড মোটরযানের ক্ষেত্রে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন্টায় সর্বোচ্চ গতি সীমা ৫০ কিলোমিটার। মহাসড়কের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি এ ঘন্টায় পঞ্চাশ কিলোমিটার।ক্যাটাগরি বি জেলা সড়কে ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার, এবং জেলা সড়কে চল্লিশ কিলোমিটার গতিতে যানবাহন চলবে। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ,ও জেলা সদরে সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার গতি, উপজেলা মহাসড়ক ও শহর এলাকায় গ্রামীণ সড়ক সহ ছোট ছোট রাস্তাগুলোতে সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার গতিতে যানবাহনগুলো চলার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এদিকে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চালাতে হবে । জাতীয় মহাসড়কে ক্যাটাগরি এ এতে ৫০ কিলোমিটার, ক্যাটাগরি বি, তে আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার, জেলা সড়কে ৫০ কিলোমিটার। এছাড়া পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদরে, উপজেলা মহাসড়কে সর্বোচ্চ ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে মোটরবাইক চালাতে হবে।অন্যান্যগ্রামীন পর্যায়ে ছোট ছোট রাস্তাগুলোতে ২০ কিলোমিটার গতিতে মোটরবাইক চালাতে হবে।
নির্দেশনায় আরো জানা যায় সড়কের শ্রেণী ও মোটরযানের শ্রেণী ধরন অনুযায়ী উপরে উল্লেখিত সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্দেশনা মেনে সড়কে এবং মহাসড়কে মোটরযান গুলো চালাতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় সড়কে ও মহাসড়কের পাশে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা, হাট বাজার, ধর্মীয় সকল প্রতিষ্ঠানের সামনে চলাচলরত রাস্তাগুলোতে মোটরজান সর্বোচ্চ গতিসীমা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও রাস্তা নির্মাণকারী উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত করা হবে। তবে কোনক্রমে জাতীয় মহাসড়কের ক্ষেত্রে ৪০ কিলোমিটার , আঞ্চলিক মহাসড়কের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার বেশি গতি হবে না , জরুরী ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ফায়ার সার্ভিস এদের গতিসীমা শীতের যোগ্য থাকবে।
সর্বোচ্চ প্রতি সীমার এই বাধ্যকতা শুধুমাত্র স্বাভাবিক অবস্থায় বিবেচিত হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অতিরিক্ত বৃষ্টি ,প্রচুর রোদ, ঘন কুয়াশা, এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণযোগ্য নিরাপদ গতিসীমা প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন বিআরটিএর নির্দেশনায় আরো বলা আছে জাংশন, জ্যামিতিক কাঠামো, সড়ক বাক ,পরিবেশ দুর্ঘটনার ঝুঁকি অন্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে মোটরযানের শ্রেণী ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বের জন্য ট্রাফিক সাইন ম্যানুয়াল অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড ট্রাফিক সাইন পোস্ট ও গতিসীমা প্রদর্শন স্থাপন করবে।
তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দৃষ্টিসীমা বেশি মাত্রায় কমে গেলে বা একেবারেই দেখা না গেলে মোটর যান চালানো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখতে হবে।
উপরে উল্লেখিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন বিআরটিএর নির্দেশনা যানবাহনের গতিসীমা অমান্য করলে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন ২০১৮ আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ,এবং পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবদ থাকবে ।




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন