
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ময়মনসিংহ ব্যুরো: ময়মনসিংহের সদর উপজেলা পরানগঞ্জে দেওয়াল চাপায় রাশেদ এর মৃত্যু নয়, তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে, প্রমাণ পাওয়া গেছে মেডিকেল রিপোর্টে। গত বুধবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৪) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জের বাঘাডোবা চরপাড়া হিরণপলাশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ ওই গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর আটজন কিশোর একসঙ্গে খেলাধুলা করছিল। খেলাধুলা করার পর উজ্জ্বল মিয়ার নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় রাশেদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পর খেলাধুলা করা সাত কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ কিন্তু মেডিকেল রিপোর্ট না থাকার কারণে তাদেরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়না তদন্তকারী ডাঃ মো. শোহাব নাহীয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, তিনি মৃতের মৃত সংক্রান্তে নিন্ম-বর্ণিত মতামত প্রদান করিয়াছেন যে, আমার মতে মৃত্যু ইন্ট্রাক্রানিয়াল রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছিল যা মাথায় আঘাতের ফলে ভোঁতা আঘাতের কারণে হয়েছিল যা প্রকৃতিগতভাবে পূর্ববর্তী এবং নরহত্যা ছিল।
মেডিকেল রিপোর্ট আসা মাত্রই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাইন উদ্দিন। শুক্রবার (০৫ জুলাই ২০২৪) তারিখে মামলা নাম্বার-১১ রুজু করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচার পাওয়ার অধিকার গরিব-ধনী আছে সবার’
২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ সভায় ২৮ এপ্রিল দিনটিকে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এক নজিরবিহীন প্রমাণ দিলেন কোতোয়ালি মডেল থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ মাইন উদ্দিন।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশের সংবিধানেই সমতা ও বিচারপ্রার্থীর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ মূলত ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে বর্ণিত ৭ অনুচ্ছেদের প্রতিফলন। ওই ঘোষণাপত্রের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনের দৃষ্টিতে সকলই সমান এবং কোনো রকম বৈষম্য ছাড়াই আইনগত নিরাপত্তা লাভের সমান অধিকারী।
রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক আর্থিক অভাব-অসচ্ছলতার কারণে আইন বা বিচারের আশ্রয় গ্রহণ বা প্রবেশ করতে (access to justice) পারবে না এটি কোনো ভাবেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যাশিত নয়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক যদি তার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তবে সংবিধানে বর্ণিত আইনের শাসন, সমতা, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের বিধান অর্থহীন হয়ে পড়বে।
আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসহায়, রাষ্ট্রের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ, বিচারের দ্বারস্থ হতে এবং আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে সে জন্যই প্রয়োজন আইনগত সহায়তা। আইনগত সহায়তার মূল উদ্দেশ্যই হলো অভাবী, অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের আইন-আদালত কিংবা মামলা মোকদ্দমায় প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন