
বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বিহারীপুরে কুইক চিকস এর অবৈধ মুরগের হ্যাচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে রীতিমতো ছল-চাতুরী শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। একাধিক লিখিত অভিযোগের তদন্তে গড়িমসি এবং রহস্যজনক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আলী আকবর। গত ২৭ ফেব্রুয়ারী এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরিত অভিযোগের তদন্তে মূলা দেখাচ্ছেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।
এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্তে না গেলেও আলী আকবর গোপনে হ্যাচারীতে প্রাতঃভ্রমন করেছেন একাধিকবার! তার এই গোপনীয় তৎপরতা স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে না এলাকাবাসী। ইউএনও মোঃ গিয়াস উদ্দিন এবং প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আলী আকবরের বক্তব্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। তারা উভয়ের ভূমিকাই জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। এতে জনমনে ক্রমেই বাড়ছে তীব্র অসন্তোষ। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চামাদানির গোপনে পরিদর্শন রহস্য আরও ঘনিভুত হচ্ছে।
এলাকার ভুক্তভোগীদের অভিমত হচ্ছে অবৈধ হ্যাচারীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে প্রশাসনের গোপন আঁতাত রয়েছে। আর তা না হলে কি করে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এলাকার ভুক্তভোগীদের না জানিয়ে গোপনে আসা- যাওয়া করেন? এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখির ঝড় বইছে। প্রত্যেকেই হ্যাচারীর কারণে এলাকায় মাছির উপদ্রব ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগ তদন্তে বাহুবল উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আলী আকবরের ছল-চাতুরীকে দায়ী করছেন।
উল্লখ্য, বিহারীপুর গ্রামে ‘কুইক চিকস’ নামের মুরগের হ্যাচারীর পরিবেশ দূষন ও মাছির উপদ্রবের বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তদন্তের দায়িত্ব পান উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আলী আকবর। এর পরদিন তিনি গোপনে পরিদর্শন করেন হ্যাচারী। অথচ ওইদিন তিনি বাদি বা এলাকার কোন লোককে জানিয়ে হ্যাচারীতে যাননি।
তবে কয়েক ব্যক্তি খবর পেয়ে কুইক চিকস টর গেইটে গেলে আলী আকবর পরিবেশ দূষণ ও মাছির ভয়াবহতার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে হ্যাচারী কর্তৃপক্ষকে ৪/৫ দিন সময় দেওয়ার সুপারিশ করেন প্রধান আবেদনকারী আজগর আলীকে। এসময় তিনি
একবার বলেন ‘লিখিত কোন অভিযোগ পাননি’ আবার বলেন পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে ইউএনও স্যার তাকে বলছেন দেখার জন্য। এ কারণেই নাকি তিনি হ্যাচারীতে গিয়েছেন । ২৭ জানুয়ারী অভিযোগটি দেয়ার পর অদ্যবদী আনুষ্ঠানিক কোন তদন্ত প্রয়োজন মনে করেননি প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, হ্যাচারীতে আর কেউ মুরগ তুলতে পারবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরকে তিনি বলে দিয়েছেন কোন ছাড়পত্র না দিতে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন কবে নাগাদ পাবেন এর সঠিক কোন বক্তব্য দেননি তিনি।
এদিকে ১০ ফেব্রুয়ারী রবিবার দুপুরে নাকি পরিদর্শন করে গেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের দুই ব্যক্তি। তারা কিসের জন্য আসলেন বা গেলেন তা এলাকার ভুক্তভোগি কেউ জানেন না। তারা গোপনে আসা স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রশাসনের দূর্বলতা কেন?
গোপনে আসা- যাওয়াটা কি এলাকার হাজার হাজার ভুক্তভোগীদের সাথে প্রতারণা নয়?
কে দিবে এর জবাব?




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন