
শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টারঃ
নওগাঁয় গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য শালিসে মাতব্বররা করলেন ধর্ষকের জরিমানা। আর ঐ গৃহবধূকে তালাক দিলেন তার স্বামী। এমনকি ধর্ষণের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ঐ গৃহবধূকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তার দরিদ্র বাবার বাড়িতে। গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রামের শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বসা শালিসে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বলেন ”সে (ধর্ষক) আমার জীবন নষ্ট করেছে, আমি তাকে ছাড়বো না” এমন কথা বলার পরও মাতব্বররা ধর্ষককে বাঁচাতে থানা পুলিশে সোর্পদ বা পুলিশকে না জানিয়ে উল্টো জরিমানা করার মাধ্যমে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন। শালিসের ভিডিও বুধবার ২০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে লোকজনের মাঝে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। সম্পতি এঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গোবিন্দপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন এর ছেলে ও পল্লি গবাদী পশু চিকিৎসক শামীম হোসেন তার প্রতিবেশী যুবকের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে। গত রবিবার ১৭ আগস্ট সকালে শামীম ঐ যুবকের খোঁজে তার বাড়িতে গেলে সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যুবকের বুদ্ধী প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন। এসময় বাড়ির লোকজন জানতে পেরে শামীমকে মারপিট করেন। এঘটনায় দুপুরে গ্রামে শালিসের আয়োজন করা হয় এবং গৃহবধূর বাবার বাড়িতে ও খবর দেওয়া হয়। শালিসে উপস্থিত শতাধীক লোকজনের উপস্থিতিতে শামীম ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে বলে প্রমান হয়। এসময় ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বলেন ”সে (ধর্ষক) আমার জীবন নষ্ট করেছে, আমি তাকে ছাড়বো না” বলে গৃহবধূ ধর্ষক শামীমের শাস্তি দাবি করেন তারপরও শালিসে বসা মাতব্বররা রায় দেন, যে ধর্ষক শামীম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিবে, আর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দিবে। এ রায়ের পরই ধর্ষক শামীম জরিমানার টাকা নগদ প্রদান করে ধর্ষণের দায় থেকে মুক্ত হোন। অপরদিকে সেই গৃহবধূকে ও তালাক দেন তার স্বামী। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঐ গ্রামে গেলে ঘটনার সত্যতা শিকার করে গ্রামের লোকজন ধর্ষক শামীমের আইনানুগ ও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে বলেন, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাটি নিয়ে কিভাবে শালিস হয় তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ধর্ষণের ঘটনা নাকি আপোষ যোগ্য নয় তারপরও শালিস করা হলো এনিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। অপরদিকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার কথা সংবাদকর্মীর কাছে শিকার করেছেন ধর্ষক শামীম নিজেই। শালিসে থাকা একজন মাতব্বর বলেন, জরিমানার টাকা মেয়েকে দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন রেজা বলেন, ঘটনাটি কেউ জানায় নি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন