
নিজস্ব প্রতিনিধি,কেন্দুয়া নেত্রকোনা:
বিয়ের ফাঁদে ফেলে তিন নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টাকালে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক চীনা নাগরিকসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাতে কেন্দুয়া পৌরসদরের সলফ কমলপুর গ্রামে রুবেল মিয়ার বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে আটককৃতরা কেন্দুয়া থানার হেফাজতে রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত দশটার দিকে এক প্রাইভেটকারযোগে চীনা নাগরিক লি ওয়েইহাও (৩৮) ও কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটের ফরিদুল ইসলাম (৩৫) কেন্দুয়ার সলফ কমলপুরে আসে। এ সময় স্থানীয় রুবেল মিয়ার গার্মেন্টস কর্মী কন্যা, তার খালাতো বোন ও জামালপুরের এক কিশোরী কন্যা তাদের সঙ্গে ছিল। পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়েই তারা ঢাকা হয়ে চীন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।তবে বিয়ের কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। মোবাইলে দেখানো তথাকথিত বিয়ের কাগজপত্রে অসংগতি ধরা পড়লে বিষয়টি মদন আর্মি ক্যাম্পে জানানো হয়। পরে আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারের নির্দেশে রাত দুইটার দিকে কেন্দুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চীনা নাগরিক লি ওয়েইহাও ও বাংলাদেশি ফরিদুল ইসলামকে আটক করে।পুলিশ সূত্র জানায়, ফরিদুল ইসলামের মোবাইল ঘেঁটে অসংখ্য কিশোরী নারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কপি ও পাচারের আলামত হিসেবে বিভিন্ন চ্যাটিং ও অডিও রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও তার কাছে একাধিক ব্যাংক কার্ড পাওয়া গেছে।জামালপুর থেকে আসা কিশোরী জানান, সেও সম্প্রতি এক চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছে এবং খুব শিগগিরই চীনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আটক চীনা নাগরিক লি ওয়েইহাও ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং ২১ সেপ্টেম্বর ফেরার কথা থাকলেও কেন্দুয়ায় অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে কোনো অনুমতি নেয়নি।কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, “ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “বিদেশি নাগরিক জেলা বা উপজেলায় প্রবেশ করলে অবশ্যই প্রশাসনকে অবহিত করতে হয়। আটক চীনা নাগরিকের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অসহায় নারীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।



















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন