
মাহমুদুন্নবী সুমন লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে জরাজীর্ণ এবং খানাখন্দে ভরা সড়কের চিত্র দেখা গেছে। কোনো কোনো সড়ক ১০-১৫ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। আবার কোনো সড়ক পৌরসভার আওতাভুক্ত হওয়ার পরেও একবারের জন্যেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। ১ম শ্রেণির পৌরসভা হলেও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। পৌর এলাকার বেশিরভাগ ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দীর্ঘ সময় ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিগত সময়ে পৌর মেয়র পদে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা পৌর এলাকার সড়ক সংস্কারে তেমন একটা নজর দেননি বলে অভিযোগ পৌর বাসিন্দাদের।বর্তমান পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে পৌরসভার মোট ১১২টি সড়ক সংস্কার করতে হবে। এর জন্য প্রায় ৭০ কেটি টাকা প্রয়োজন, যা পৌরসভার তহবিলে নেই।তবে সম্প্রতি শহর কেন্দ্রীক কিছু সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের অভাবে শহরের বাইরের সড়কগুলো থেকে যাচ্ছে সংস্কারের বাইরে। ফলে জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তি শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষের ওপর।বিশেষ করে পৌরসভাকে ১২টি ওয়ার্ড থেকে ১৫টি ওয়ার্ডে উন্নীত করা হলেও নতুন ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড নামমাত্র পৌরসভার মধ্যে অন্তভূক্তি হয়েছে। তখনকার জনপ্রতিনিধিদের সময়কালে পৌরসভার নতুন এলাকাগুলোর পাকাসড়ক তেমন একটা সংস্কার হয়নি। আর কাঁচা সড়কে ইটের সলিং করা হলেও সেগুলোর বর্তমান অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে আছে।পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ৮নম্বর ওয়ার্ডটির সড়ক ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। পৌরসভার আওতাধীন সড়কের পাশাপাশি এ ওয়ার্ডে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কও রয়েছে। বাজার ব্রিজের দক্ষিণে গোহাটা সড়ক থেকে তেরবেকি সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চরম দুর্ভোগে চলাচল করতে হয়। শহরের সামাদ মোড় থেকে আইয়ুব আলী পোল সড়ক, হায়দার আলী টু বড়বাড়ি সড়ক, আজিজিয়া মাদরাসা সড়ক, কলেজিয়েট স্কুল সড়ক একেবারে নাজুক। সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলাচল এ সড়কগুলো দিয়ে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জোড় দিঘিরপাড় সড়ক, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনা রোড, পৌরসভার স্টেডিয়ামের সামনে থেকে বাইশমরা সড়ক একেবারে বেহাল অবস্থা।সড়কের বেহাল অবস্থা দেখা গেছে, পৌর ১, ২, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড বাইশমারাতে লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অবস্থিত। পৌর ১১ এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে।পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকার বাসিন্দা হাসান মাহমুদ বলেন, আমাদের এলাকার প্রায় সবগুলো সড়কে বড় বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে পুকুরে পরিণত হয়। এলাকাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও সড়ক ব্যবস্থা একেবারে বেহাল হওয়ায় খুবই দুর্দশা নিয়ে আমাদেরকে চলাচল করতে হচ্ছে তিনি জানান, সরকারি কলেজের আশপাশে পৌরসভার আওতাধীন আরও বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সড়ক রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘ সময় সংস্কারের বাইরে থাকার খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, বিগত সময়ে সড়ক সংস্কার না করার কারণে পৌরসভার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পৌর আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বলেন, কলেজে আসাযাওয়ার একমাত্র সড়ক মেঘনা সড়ক। এ সড়কটির অবস্থা এত খারাপ রিকশায়ও চলাচল করতে চায় না। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজনের চলাচলের সুবিধা হতো।এদিকে অর্থ সংকটের মাঝেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কিছু সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিগঞ্জ থেকে ডিবি সড়ক হয়ে রামগতি সড়কের আধুনিক হাসপাতাল সংলগ্ন লিংক সড়ক এবং মটকা মসজিদ থেকে পূর্ব দিক হয়ে দক্ষিণে পলিটেকনিক পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের কাজ কিছু দিনের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময়ের দুর্ভোগ লাগব হবে পৌরসভার ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।জরাজীর্ণ সড়কের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ১১২টি সড়ক সংস্কার করতে হলে ৭০ কোটি টাকার মতো প্রয়োজন। আমাদের তহবিলে সড়ক সংস্কারের জন্য এতো পরিমাণ অর্থ নেই। এক কোটি ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা রয়েছে, যা একেবারে যৎসামান্য।তিনি জানান, জরাজীর্ণ সড়কের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। এছাড়া বিশ্ব ব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থার কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হবে।




















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন