
শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন ব্যুরো প্রধান নওগাঁ জেলা /
নওগাঁয় এক নারী (২৩) এর মুঠোফোনে কলদিয়ে কথা বলার মাত্র ৩ মাসের পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে তুলে। সেই সম্পর্কের সুত্রধরে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ঐ নারীকে ধর্ষণ ও ব্লাকমেইল করার ঘটনায় থানা পুলিশ ৫ জন কে আটক করেছেন। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়ীত আরো ৩ জন পলাতক রয়েছে। পলাতকদের ও আটক পূর্বক আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে থানা পুলিশ। এধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে বুধবার ৯ আগস্ট নওগাঁর পন্তীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর শহরে।
আটককৃত ৫ জন হলেন, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কান্তাইল গ্রামের বাবুল রানা হামিদ এর ছেলে জিহাদ হাসান জিসান (১৬), পত্নীতলা উপজেলার পত্নীতলা বাজার এলাকার তৈমুর আলীর ছেলে তৈয়ব আলী (২২), একই এলাকার মোজাফ্ফর রহমান এর ছেলে মেজবাউল হক ওরফে ইমন (২৭), গোপীনগর গ্রামের বিদ্যুৎ মন্ডল এর ছেলে তন্ময় মন্ডল (২০) ও হরিরামপুর গ্রামের লবিবর রহমান এর ছেলে মাহাবুব আলম (২৮)।
এঘটনার পর থেকে পারভেজ, রিপন ও মাহাবুব নামে আরো ৩ জন পলাতক রয়েছেন।
থানা ও মামলার এজাহার সুত্রে জানাযায, ভিকটিম নারী (২৩) এর ৪ বছর বয়সী এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। মামলার মূল ১ নং আসামী মাহাবুব আলম (২৮) এর সাথে ভিকটিম নারীর ৩ মাস পূর্বে মুঠোফোনে পরিচয় ও কথা বলার মাঝেই তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক সুত্রে মাহাবুব আলম গত ৯ আগস্ট বুধবার সকাল ১০ টারদিকে ভিকটিম নারীর মুঠোফোনে কলদিয়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা জানিয়ে ভিকটিম নারীকে ছাতড়া বাজারে আসতে বললে ভিকটিম নারী তার ৪ বছর বয়সি মেয়ে শিশুকে সাথে নিয়ে ছাতড়া বাজারে আসেন। বাজারে আসার পর মাহাবুব আলম ও জিসান একটি মোটরসাইকেল যোগে এসে বেড়ানোর কথা বলে সেই মোটরসাইকেলে ভিকটিম নারী ও তার শিশু সন্তানকে তুলেনিয়ে বেড়ানোর এক পর্যায়ে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাস ষ্টান্ড এলাকায় এসে খাবার খেয়ে নজিপুর পৌর এলাকার আলহেরা পাড়ার একটি বাসা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেই মাহাবুব আলম বিয়ে করা সহ নানা প্রলোভন দেন ভিকটিম নারীকে এবং এক পর্যায়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করাকালে ভিকটিম নারী ও তার ৪ বছর বয়সি মেয়ে ডাক- চিৎকার শুরু করলে ঘটনাস্থলের আশে-পাশে থাকা অপর আসামীরা ঘটনাস্থলে এসে উল্টো ঘটনা প্রকাশ করে দেওয়া সহ পুলিশ ডেকে ধরে দেওয়ার কথা বলে ভঁয় দেখিয়ে ভিকটিম নারীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এসময় ভিকটিম নারী তার বাবাকে ফোনদিয়ে বিকাশ এর মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নিয়ে দেওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে সন্ধারদিকে ছেরে দিলেও ইমন ও তন্ময় মন্ডল ভিকটিম নারী ও তার শিশু সন্তানকে সাথে নিয়ে পত্নীতলা বাজারে গিয়ে আবারো ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ভিকটিম নারীর বাবাকে ফোন দেন। এরপর ভিকটিম নারীর বাবা তার নিজ এলাকার ইউপি মেম্বার সহ কয়েক জনকে সাথে নিয়ে রাত দেরটারদিকে পত্নীতলা বাজারে পৌছে পত্নীতলা থানা পুলিশ কে ঘটনাটি অবগত পূর্বক সহযোগীতা চাইলে থানা পুলিশ ভিকটিম নারী ও তার ৪ বছর বয়সি মেয়েকে উদ্ধার করেন। এঘটনায় ধর্ষণের শিকার ভিকটিম নারী বাদী হয়ে মাহাবুব আলম কে ১ নং আসামী করে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ পলাশ চন্দ্র দেব জানান, ভিকটিম মামলা দায়ের করার পর ৫ জনকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেল-হাজতে প্রেরন করা হয়েছে এবং পলাতক থাকা অপর আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।





















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন