
অনলাইন ডেস্ক:
যশোরে সিআইডি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের চার সদস্য আহত হলেও অভিযুক্ত মাদক কারবারি ও তার সহযোগীদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে, পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—কে এই তুষার, আর কীভাবে সে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠলো?বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেলে সদর উপজেলার রাজারহাট বাজারের কেয়া খাবার হোটেলের সামনে ইয়াবাসহ তুষার (২৭) নামে এক যুবককে আটক করতে গেলে তার সহযোগীরা সিআইডি পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর, একজন এএসআই ও একজন কনস্টেবল আহত হন। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।সিআইডি সূত্র জানায়, এসআই হাবিব, এসআই তরিকুল ইসলাম, এএসআই মো. জাহিদ হোসেন ও কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম অভিযানে অংশ নেন। রামনগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ ক্যাডার মাসুদ রানার ছেলে তুষারকে আটক করার সময় তার সহযোগীরা হামলা চালায়। স্থানীয়রা প্রথমে দলটিকে ‘ভুয়া পুলিশ’ সন্দেহে ঘিরে ধরে। এসময় হামলাকারীরা তুষারকে ছিনিয়ে নেয় এবং আটক যুবক শাওনকেও (২১) পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিআইডি পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) সিদ্দিকা বেগম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, তুষার ও তার চক্র দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহর ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। শহরের রেলগেট, রেলস্টেশন, ঝিলপুকুর, রায়পাড়া, চোরমারা দীঘিরপাড়, চাঁচড়া, শঙ্করপুর, খড়কি কলাবাগান পাড়া, পুলেরহাটসহ একাধিক স্পটে মাদক লেনদেন হয় প্রকাশ্যে। শুধু শহর নয়, শার্শার জামতলা, কায়বা, নাভারণ রেলস্টেশন, উলশী, কন্যাদহ এলাকা থেকেও নিয়মিত ইয়াবা, গাঁজা ও ফেন্সিডিল মেলে।মাদক কারবারিদের এমন দাপট ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমাজ সচেতন মহল বলছে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।



















এই post বিষয়ে আলোচনা করুন